ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা: হযরত আইয়ুব (আ.)-এর জীবনকাহিনি

২০২৬ জুন ২৬ ১২:১৯:২৮
ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা: হযরত আইয়ুব (আ.)-এর জীবনকাহিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক: হযরত আইয়ুব (আ.)-কে ইসলামের ইতিহাসে ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা হয়। কুরআন ও ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, আল্লাহ তাঁকে ধারাবাহিক নানা পরীক্ষার মুখোমুখি করেছিলেন।

তাফসির ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ আছে, হযরত আইয়ুব (আ.) ছিলেন সম্পদশালী ব্যক্তি। তাঁর ছিল বিপুল সম্পদ, গবাদিপশু ও সমৃদ্ধ পরিবার। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি একে একে সম্পদ ও সন্তানদের হারান।

এরপর তিনি দীর্ঘদিন কঠিন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতে থাকেন। কুরআনে রোগের প্রকৃতি বা সময়কাল উল্লেখ না থাকলেও বিভিন্ন তাফসির ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিবরণ পাওয়া যায়।

সব প্রতিকূলতার মধ্যেও হযরত আইয়ুব (আ.) আল্লাহর প্রতি আস্থা হারাননি। তিনি ধৈর্য ধারণ করেন এবং অভিযোগের পরিবর্তে রবের রহমতের প্রত্যাশা করেন।

কুরআনে তাঁর দোয়া এভাবে বর্ণিত হয়েছে—"হে আমার রব, আমাকে তো কষ্ট স্পর্শ করেছে, আর আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে সর্বাধিক দয়ালু।" (সুরা আল-আম্বিয়া: ৮৩)

আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন। কুরআনে এসেছে, আল্লাহ তাঁকে পা দিয়ে ভূমিতে আঘাত করতে নির্দেশ দেন। এরপর সেখান থেকে একটি ঝরনা বের হয়। সেই পানি দিয়ে গোসল ও পান করার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা দান করেন। পাশাপাশি তাঁকে পরিবার ও অনুগ্রহ ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং তা মানুষের জন্য একটি শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হযরত আইয়ুব (আ.)-এর ঘটনা আমাদের শেখায়, কঠিন পরীক্ষার সময়ও আল্লাহর ওপর ভরসা, ধৈর্য এবং কৃতজ্ঞতা একজন মুমিনের অন্যতম বড় গুণ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীরা। এরপর যারা তাদের নিকটতম মর্যাদার, তারপর তাদের পরবর্তী ব্যক্তিরা।"(সুনান আত-তিরমিজি)*

হযরত আইয়ুব (আ.)-এর জীবন তাই ধৈর্য, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর রহমতের প্রতি অটুট বিশ্বাসের এক চিরন্তন শিক্ষা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে