ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

২০২৬ জুন ২৮ ২৩:৪৫:১২
ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করা, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে বাংলাদেশকে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ। গত ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সংস্থাটির সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় এ ঋণ অনুমোদন করা হয়।

রোববার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে এই অর্থায়ন ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকট মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সংস্কারের ভিত্তি তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের মাধ্যমে আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা (Emergency Liquidity Assistance) কাঠামো গঠন, ব্যাংক পুনর্গঠনের কৌশল প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সংস্কার।

বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম এবং অনৈতিক সুবিধা প্রদানের কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকিং খাতের গড় খেলাপি ঋণের হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের পুরো ব্যাংকিং খাতের মূলধন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত (Capital to Risk-weighted Assets Ratio) নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে একটি স্থিতিশীল, শক্তিশালী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে রয়েছে, যদিও এটি দেশের মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণ করে।

তার ভাষ্য, প্রকল্পটির মাধ্যমে বাংলাদেশ এমন প্রয়োজনীয় কাঠামো, সুরক্ষা ব্যবস্থা ও নীতিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারবে, যা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত আবারও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন করা হবে। এর ফলে ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা, পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের ডেটা ও অ্যানালিটিক্সসংক্রান্ত ঘাটতি দূর করা সহজ হবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, তথ্যনির্ভর ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি আরও কার্যকর হবে এবং দেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতা (Resilience) উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হবে।

প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর স্পেশালিস্ট তোশিয়াকি ওনো বলেন, এই প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার মতে, এ প্রকল্প ব্যাংকিং খাতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে এবং খাতটির ওপর বিদ্যমান চাপ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে