ঢাকা, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

‘বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক মানেই চরিত্রহীনতা নয়’—সুপ্রিম কোর্ট

২০২৬ জুন ০৮ ১৮:৩৭:১৪
‘বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক মানেই চরিত্রহীনতা নয়’—সুপ্রিম কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ককে কোনো ব্যক্তির চরিত্র সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

সম্প্রতি এক মামলার রায়ে বিচারপতি মনমোহন ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ মন্তব্য করে। একই সঙ্গে তেলেঙ্গানার এক পুলিশ কনস্টেবল প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তও খারিজ করে দেয় আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, ওই প্রার্থী স্টাইপেন্ডিয়ারি ক্যাডেট ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আগে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলার কারণে নিয়োগ বাতিল করা হয়।

২০১৪ সালে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন তিনি। পরে ২০১৫ সালে লোক আদালতের মাধ্যমে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। চাকরির আবেদনপত্রে প্রার্থী নিজেই মামলার তথ্য উল্লেখ করেছিলেন।

রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, পারস্পরিক সম্মতিতে দুই অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠলে সেটিকে চরিত্রগত দুর্বলতা বা নৈতিক স্খলনের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। এমন কোনো আইন নেই, যা দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্ক স্থাপনে বাধা দেয়।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, সব সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিয়েতে পরিণত হয় না। শুধুমাত্র সম্পর্কটি বিয়েতে গড়ায়নি বলেই প্রতারণার অভিযোগকে সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না।

বিচারপতিরা বলেন, কোনো মামলার সমঝোতা বা নিষ্পত্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিযুক্তের অপরাধ স্বীকারের সমান নয়। অভিযোগকারীকে জোরপূর্বক সমঝোতায় বাধ্য করা হয়েছিল—এমন প্রমাণ না থাকলে কেবল সমঝোতার ভিত্তিতে একজন চাকরিপ্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

আদালত উল্লেখ করে, বর্তমান সমাজে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিমূলক সম্পর্ক একটি বাস্তবতা। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য।

রায়ে আরও বলা হয়, অভিযোগকারী নিজেই মামলা চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং প্রতারণার অভিযোগ প্রতিষ্ঠার মতো যথেষ্ট প্রমাণও উপস্থাপিত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে পুলিশ বাহিনীতে চাকরির জন্য অনুপযুক্ত বলার মতো যথেষ্ট ভিত্তি ছিল না।

এ কারণে আদালত তেলেঙ্গানা পুলিশ নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাতিল করে এবং প্রার্থীর পক্ষে রায় দেয়।

দীপক/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে