ঢাকা, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক পণ্যে বড় পদক্ষেপ, আসছে নতুন সঞ্চয়পত্র

২০২৬ জুন ০৮ ১১:১০:৫৯
শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক পণ্যে বড় পদক্ষেপ, আসছে নতুন সঞ্চয়পত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগে আগ্রহীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে শরিয়াহসম্মত সঞ্চয়পত্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থ বিভাগের নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিডিএমসি) সাম্প্রতিক এক সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী বছরের শুরুতেই এ ধরনের সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হতে পারে।

সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে প্রতি বছরই দেশীয় ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়। স্থানীয় উৎস থেকে নেওয়া ঋণের একটি বড় অংশ আসে ট্রেজারি বিল ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিলের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ঋণ গ্রহণ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগের চাহিদা পূরণে ইসলামিক ট্রেজারি বিল ও শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি ইসলামিক ট্রেজারি বিল ইস্যুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মুনাফার কাঠামো নির্ধারণ করে সঞ্চয়পত্র বাজারে আনা হবে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ঋণাত্মক ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারের মোট দায়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক পণ্যের বড় বাজার গড়ে উঠলেও বাংলাদেশে এ খাত এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানত এবং সরকারি সুকুকই এ খাতের প্রধান বিনিয়োগ মাধ্যম।

এ পর্যন্ত দেশে ছয়টি সুকুক ইস্যু করা হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাহিদা ইস্যুকৃত পরিমাণের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ছিল। সর্বশেষ গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের জন্য সরকার ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকার সুকুক ইস্যু করে। এর বিপরীতে ৭২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়ে, যা চাহিদার তুলনায় ১২ গুণেরও বেশি।

সাত বছর মেয়াদি এ সুকুকে বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্ষিক ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যক্তি বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন প্রভিডেন্ট ফান্ড এতে অংশ নেয়।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে শরিয়াহসম্মত আর্থিক পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বিনিয়োগ মাধ্যম না থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ শরিয়াহভিত্তিক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন না। নতুন সঞ্চয়পত্র চালু হলে সেই চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হবে বলে মনে করছেন তারা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী বছরের শুরুতেই শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র বাজারে আনা হতে পারে।

আনন্দ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে