ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ভাইপো ট্যাক্স’ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

২০২৬ মে ২১ ১৪:৫৩:১৬
ভাইপো ট্যাক্স’ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে গত এপ্রিলে একটি বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছিলেন, ৪ মে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর বাংলার মানুষ ‘ভাইপো ট্যাক্স’ থেকে মুক্তি পাবেন। গত কয়েক বছর ধরে প্রতিবেশী রাজ্যগুলো থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করা ট্রাকচালক ও পরিবহনকারীদের কাছে এই শব্দটি আতঙ্ক ও ভোগান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে মহাসড়কে অবৈধ চেকপোস্ট বসিয়ে চাঁদাবাজি ও তোলাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। বুধবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত বিজেপি সরকার এই অবৈধ আদায় বন্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।

কিন্তু এই চাঁদাবাজিকে কেন ‘ভাইপো ট্যাক্স’ বলা হতো?

বাংলায় ‘ভাইপো’ শব্দের অর্থ ভাইয়ের ছেলে। বিজেপি ও বামপন্থীসহ একাধিক রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করত। নির্বাচনের আগে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের তোলাবাজি সিন্ডিকেটের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘পিসি-ভাইপো’ জুটি বলে উল্লেখ করেন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে এমন এক প্রভাবশালী অবস্থানে পৌঁছেছিলেন যেখানে তাঁর অনুমোদন ছাড়া কোনো কাজ এগোতো না। অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, “টাকা কামানোর অধিকার শুধু ভাইপোর আছে, সাধারণ মানুষের নয়।”

এই অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও। তিনি দাবি করেন, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে চলাচলকারী ট্রাকচালকেরা প্রায়ই তাঁর কাছে ‘অভিষেক ট্যাক্স’ আদায়ের অভিযোগ করতেন। তাঁর ভাষ্য, শিলিগুড়ি এলাকায় প্রতিটি ট্রাক থেকে আলাদা করে টাকা নেওয়া হতো।

ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই বিজেপি সরকার এই তথাকথিত ‘ভাইপো ট্যাক্স’ ও তোলাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জেলা প্রশাসকদের মহাসড়কের সব অবৈধ কালেকশন পয়েন্ট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ও মহাসড়কগুলো ‘ভাইপো ট্যাক্স’ ও ‘ডান্ডা ট্যাক্স’-এর জন্য কুখ্যাত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড-আসাম-বাংলা রুটে বিভিন্ন স্থানে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে অবৈধ চেকপোস্ট বসানোর অভিযোগ ছিল। এসব পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করত স্থানীয় সিন্ডিকেট ও তাদের সহযোগীরা।

ট্রাকচালকদের অভিযোগ, জোর করে টাকা আদায় করা হতো। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখানো, হয়রানি, গাড়ির কাঁচ ভাঙা কিংবা টায়ার ফুটো করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটত। ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াতেও দীর্ঘ বিলম্ব তৈরি হতো।

পূর্ব ভারত, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগের কারণে পশ্চিমবঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডর। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ট্রাক এই রাজ্যের বিভিন্ন মহাসড়ক ব্যবহার করে। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়ার রুটগুলোকে সবচেয়ে বেশি কুখ্যাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন ট্রাকচালক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, “প্রতি কয়েক কিলোমিটার পরপর রাস্তা আটকে টাকা চাওয়া হতো। রসিদ চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠত।”

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে