ঢাকা, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

মোটরসাইকেল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

২০২৬ মে ২০ ১০:৫৫:৫৬
মোটরসাইকেল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে মোটরসাইকেল মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আদায়ের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেলসহ কর নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা কিছু যানবাহনকে করের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকদের বার্ষিক ট্যাক্স টোকেন ফি দিতে হয়। নতুন পরিকল্পনায় সেই ব্যবস্থার সঙ্গে অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর যুক্ত হতে পারে।

তবে যাদের করযোগ্য আয় নেই বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিন) নেই, তাদের কাছ থেকে কীভাবে এই কর আদায় করা হবে— তা নিয়ে জনমনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে।

জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এনবিআর কর্মকর্তাদের বৈঠকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আপাতত টিন নম্বরের বিপরীতে এআইটি আদায়ের পরিকল্পনাই গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে আরও বেশি মানুষকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল মালিকদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনার চিন্তা যৌক্তিক হলেও করহার সহনীয় ও বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত।

আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী—

১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত থাকতে পারে

১১১–১২৫ সিসি: বার্ষিক ২ হাজার টাকা

১২৬–১৬৫ সিসি: বার্ষিক ৫ হাজার টাকা

১৬৫ সিসির বেশি: বার্ষিক ১০ হাজার টাকা

এ ছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রেও নতুন কর আরোপের চিন্তা চলছে। সম্ভাব্য প্রস্তাব অনুযায়ী—

সিটি করপোরেশন এলাকায়: ৫ হাজার টাকা

পৌরসভা এলাকায়: ২ হাজার টাকা

ইউনিয়ন পর্যায়ে: ১ হাজার টাকা

কর্মকর্তাদের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে লাইসেন্স গ্রহণের সময়ই এই কর আদায়ের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

নতুন কর আরোপের সম্ভাব্য পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর থেকেই বাইক মালিক ও চালকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রোববার আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন তারা।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আগেই বেশি। এর ওপর নতুন কর আরোপ করলে সাধারণ ব্যবহারকারী ও রাইড শেয়ারিং–নির্ভর মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

রাজধানীর গুলশানে কথা বলা কয়েকজন চালকের মধ্যে শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমি নিয়মিত ট্যাক্স টোকেন ফি দিই। নতুন করে কর আরোপ অন্যায্য হবে।”

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে