ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

রামিসা হত্যাকাণ্ডের আগে কী ঘটেছিল, জানালেন তার মা

২০২৬ মে ২১ ১১:১৫:৫১
রামিসা হত্যাকাণ্ডের আগে কী ঘটেছিল, জানালেন তার মা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের জানাজা শেষে তার মরদেহ দাদা-দাদির কবরের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) এশার নামাজের পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদি গ্রামের মোল্লা বাড়ির বায়তুল আমান জামে মসজিদের আঙিনায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে শোকাবহ পরিবেশে তাকে দাফন করা হয়।

রামিসার মা পারভীন আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন সকালে তার মেয়ে স্বাভাবিকভাবেই ঘুম থেকে উঠে বাইরে বের হয়। এরপর স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে তিনি মেয়েকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বাইরে বের হয়ে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের বাসার সামনে রামিসার স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

তিনি বলেন, সন্দেহ হওয়ায় পাশের ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে তারা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং একটি কক্ষে স্বপ্না আক্তারকে দেখতে পায়। পরে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ এবং বাথরুম থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয় বলে তিনি জানান।

মা আরও বলেন, “আমি যখন দরজায় নক করছিলাম, তখনই হয়তো ভেতরে আমার মেয়েটাকে হত্যা করা হচ্ছিল। দরজা না খোলার কারণ ছিল তারা পালানোর চেষ্টা করছিল।”

রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার কোনো শত্রু ছিল না, কোনো ধরনের বিরোধও ছিল না। তারপরও তার সন্তানকে কেন এভাবে হারাতে হলো—এ প্রশ্নের উত্তর তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, মেয়ের দৈনন্দিন কথা, আবদার ও ডাক সবকিছুই এখন তার স্মৃতিতে বেদনার মতো ফিরে আসছে।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে ৩৪ বছর বয়সী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়। সোহেল পেশায় রিকশা মেকানিক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে আদালতে হাজির করা হলে সোহেল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, ঘটনার দিন তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং শিশুটিকে জোর করে ঘরে নিয়ে যান। এরপর তাকে নির্যাতন ও হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশ আরও জানায়, মরদেহ টুকরো করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। ঘটনার সময় জানালার গ্রিল কেটে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে