ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ‘মাথার দাম’ নির্ধারণ করল ইরান

২০২৬ মে ১৯ ১৯:০২:৪৯
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ‘মাথার দাম’ নির্ধারণ করল ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ফেব্রুয়ারিতে বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। এ দুই নেতাকে হত্যার জন্য বিপুল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণার লক্ষ্যে দেশটির পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য ৫০ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার ঘোষণা করা হতে পারে।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পারস্পরিক পদক্ষেপ’ শীর্ষক বিলটি পাস হলে যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে পুরস্কার প্রদানের আইনি ভিত্তি তৈরি হবে।

এর আগে ইরান ধর্মীয় ফতোয়া বা প্রচারণার মাধ্যমে হুমকি দিলেও এবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক সংসদীয় আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

ইরান দাবি করছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সরাসরি দায়ী। জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ান জানিয়েছেন, বিলটির ওপর শিগগিরই ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এদিকে উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মার্কিন প্রশাসন এখনো ওই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কার্যকর সমঝোতা চায়। আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় সামরিক হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষতিপূরণ না দেওয়া, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা সচল রাখার মতো শর্ত দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে— লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিতে হবে।

তবে চলমান আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করতে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরানের অভ্যন্তরেও ক্ষোভ বাড়ছে। মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় দেশটির গ্যাসক্ষেত্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং শিল্পকারখানাগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ ইরানকে দ্রুত শান্তিচুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

একই সময়ে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকের কারণ দেখিয়ে চলমান ফৌজদারি মামলার শুনানি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর তার এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য আগাম হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে