ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

ব্যাংক খাতে বড় ঝড়; আগের মালিকদের ফেরানোর সুযোগ নিয়ে বিতর্ক

২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৯:১৭:৩৯
ব্যাংক খাতে বড় ঝড়; আগের মালিকদের ফেরানোর সুযোগ নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতে ব্যাপক অনিয়ম, দখল ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। ঋণের নামে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে। এতে একাধিক ব্যাংক মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে এবং আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।

গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করে এবং সংকটে থাকা এক্সিম ব্যাংক, এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে এসব ব্যাংক একীভূত হয়ে “সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক” গঠিত হয়। নতুন এই ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।

সম্প্রতি সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। সেখানে নতুনভাবে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে আগের মালিক বা সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক পরিচালনায় ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, একীভূতকরণের সময় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যে অর্থ দিয়েছে, তার মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ দিয়ে আগের মালিকরা ব্যাংকের দায়িত্ব পুনরায় নিতে পারবেন। পাশাপাশি তাদের নতুন মূলধন জোগান, দায়-দেনা পরিশোধ এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, যেসব মালিকের কারণে ব্যাংকগুলো বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, তাদের আবার পরিচালনায় ফিরিয়ে আনা রেজল্যুশনের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, যাদের কারণে ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সরিয়ে দিয়ে নতুন ব্যবস্থাপনায় পুনর্গঠন করাই রেজল্যুশনের উদ্দেশ্য। তার মতে, আগের মালিকদের ফেরানো হলে পুরো সংস্কার প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। কিন্তু যাদের কারণে অনিয়ম হয়েছে, তারা ফিরলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে। তিনি আরও বলেন, ন্যূনতম শর্তে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে, তবে বর্তমান ব্যবস্থায় ঝুঁকি রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের ফের পরিচালনায় আনা হলে পুরো ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সংশোধিত বিধানের ফলে নতুন ও বৈধ বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিচালনায় ফিরতে পারবে না।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে