ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হতে যে কারণে রাজি হননি আইনস্টাইন

২০২৬ মে ৩০ ১৮:২৬:২৪
ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হতে যে কারণে রাজি হননি আইনস্টাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী Albert Einstein শুধু বিজ্ঞানের জগতেই নয়, রাজনৈতিক ও মানবিক বিষয়েও ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। অনেকের কাছে অবাক লাগতে পারে যে, একসময় তাকে ইসরাইলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

১৯৫২ সালে ইসরাইলের প্রথম প্রেসিডেন্ট Chaim Weizmann মারা গেলে দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দেয়। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিজ্ঞানী ও জায়নবাদী নেতা ভাইৎসম্যানের মৃত্যুর পর এমন একজন আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছিল, যিনি নবগঠিত রাষ্ট্রটির মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে পারবেন। সেই বিবেচনায় সবার আগে উঠে আসে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের নাম।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত Abba Eban আইনস্টাইনের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পৌঁছে দেন। প্রধানমন্ত্রী David Ben-Gurion-এর পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ইসরাইল ভৌগোলিকভাবে ছোট হলেও এটি ইহুদি জনগণের আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের প্রতীক। তাই আইনস্টাইনের মতো একজন ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে দেশটির মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তখন ৭৩ বছর বয়সী আইনস্টাইন যুক্তরাষ্ট্রের Institute for Advanced Study-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নিউ জার্সিতে বসবাস করতেন। ইসরাইল সরকার তাকে আশ্বস্ত করেছিল যে রাষ্ট্রপতি হলেও তিনি তার বৈজ্ঞানিক কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে এজন্য তাকে ইসরাইলে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হতো।

কিন্তু আইনস্টাইন অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। জবাবি চিঠিতে তিনি লেখেন, এই প্রস্তাবে তিনি গভীরভাবে সম্মানিত ও আবেগাপ্লুত হলেও দায়িত্বটি পালনের জন্য নিজেকে উপযুক্ত মনে করেন না। তিনি বলেন, সারাজীবন তিনি বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ সমস্যা নিয়ে কাজ করেছেন; মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা তার নেই।

আইনস্টাইন আরও উল্লেখ করেন, ইহুদি জনগণের সঙ্গে তার গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই কারণেই প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিতে তার কষ্ট হচ্ছে। তবুও তিনি মনে করেছিলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মতো দায়িত্ব এমন ব্যক্তির হাতে থাকা উচিত যার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও আইনস্টাইন ইসরাইল বা ইহুদি জনগণের প্রতি উদাসীন ছিলেন না। তিনি জায়নবাদী আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন এবং বহু বছর ধরে ইহুদিদের জন্য একটি নিরাপদ আবাসভূমির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি আরব ও ইহুদিদের সহাবস্থানভিত্তিক শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও সমর্থক ছিলেন। বিভিন্ন সময় তিনি চরমপন্থা, সহিংসতা ও উগ্র জাতীয়তাবাদের সমালোচনা করেছেন।

পরবর্তীতে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন Yitzhak Ben-Zvi। আর আইনস্টাইন তার গবেষণা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করেন। ১৯৫৫ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞান, শান্তি ও মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় রাজনৈতিক প্রস্তাবগুলোর একটি ছিল এটি। বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের একজনকে একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসার আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি তা গ্রহণ করেননি। তার এই সিদ্ধান্ত আজও বিনয়, আত্মসমালোচনা এবং দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সর্বশেষ খবর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি - এর সব খবর



রে