ঢাকা, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

বিএটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং অভিযোগ

২০২৬ মে ২৪ ১৮:০১:১১
বিএটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাধীনতার পর পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার কথা থাকলেও জাল নথি ও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি কারখানার মালিকানা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শনিবার (২৩ মে) দুদকের উপ-পরিচালক আক্তারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি ১৯৪৭ সালে করাচিতে প্রথম কারখানা স্থাপন করে। পরে ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রাম এবং ১৯৬৫ সালে ঢাকায় কারখানা গড়ে তোলে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই দুই কারখানা পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় যাওয়ার কথা ছিল।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের দুটি কারখানা হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। একই তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে কর ছাড় ও ক্ষতিপূরণও নেয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

পরে জাল কাগজপত্র তৈরি এবং প্রভাব খাটিয়ে কোম্পানিটিকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হয়। এর মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই কারখানাসহ পুরো মালিকানা কাঠামো ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর নিয়ন্ত্রণে বহাল রাখা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, গত ৫৫ বছরে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে বিদেশে নিয়ে গেছে। অথচ আইন অনুযায়ী কারখানাগুলো সরকারের মালিকানাধীন হওয়ার কথা ছিল।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক বাংলাদেশ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড, পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত সব নথি তলব করেছে। এসব নথির মধ্যে রয়েছে মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন, মালিকানা কাঠামো, নিবন্ধিত কার্যালয়ের তথ্য, কারখানার তালিকা, ইনকরপোরেশন সনদ, অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন, শেয়ারের সংখ্যা এবং পরিচালনা পর্ষদসংক্রান্ত তথ্যাদি।

এ বিষয়ে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সত্যায়িত নথিপত্র দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানির এক তৎকালীন অর্থ ব্যবস্থাপক কয়েকজন মন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তার সহায়তায় জাল নথি প্রস্তুত ও দাখিল করেন। সে সময় যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের তৎকালীন নিবন্ধক আপত্তি তুললেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে তিনি নথি গ্রহণে বাধ্য হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া কর ও মূল্য সংযোজন কর ফাঁকির অভিযোগ আড়াল করতে গত তিন দশকে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সচিবদের কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত বা মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের লাভজনক এজেন্সি ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে করাচিভিত্তিক পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানির ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এজন্য ইসলামাবাদে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং করাচিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহায়তা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে ঘটনাটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, এ বিষয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ জানিয়েছে, তারা আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানাবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে