ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হিসাব

২০২৬ জানুয়ারি ২৩ ০৮:৫৬:৩২
নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হিসাব

নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফল করতে পারে—এমন ধারণার ভিত্তিতে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে ‘বন্ধুত্বের পথে’ হাঁটতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকরা ইসলামপন্থি দলটির রাজনৈতিক উত্থানকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের একটি অডিও রেকর্ড তাদের হাতে এসেছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ওই বৈঠকে এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ‘ইসলামি ধারায় ফিরছে’ এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফল করতে পারে। ওই কূটনীতিকের ভাষায়, “আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে চাই।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই বৈঠকে মার্কিন কূটনীতিকরা জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের সদস্যদের মিডিয়ায় আনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধিদের টকশো বা টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব কি না। নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি বলে জানায় ওয়াশিংটন পোস্ট।

তবে প্রতিবেদনে এটিও উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যদি শরিয়াহভিত্তিক কোনো আইন চাপিয়ে দেয় বা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চরম অপছন্দনীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তার ভাষায়, “সহজভাবে বললে, যদি জামায়াত এমন কিছু করে যা আমাদের উদ্বিগ্ন করবে, তাহলে পরদিনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা সম্ভব।”

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায় এবং দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। যদি নারীদের কর্মঘণ্টা সীমিত করা হয়, কর্মক্ষেত্র থেকে বাদ দেওয়া হয় কিংবা শরিয়া আইন জারি করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় পোশাক ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে অর্ডার বন্ধ করে দিতে পারে। “অর্ডার বন্ধ হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির অস্তিত্বই থাকবে না,”—বলেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন যে জামায়াতে ইসলামী এমন সিদ্ধান্ত নেবে না।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ডিসেম্বর মাসে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি রুটিন ও অপ্রকাশযোগ্য বৈঠক হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে নয়। বাংলাদেশের জনগণ যাকেই নির্বাচিত করবে, যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গেই কাজ করবে।”

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, গোপন কূটনৈতিক বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে চান না। এ প্রতিবেদন নিয়ে জামায়াতের প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এটি একটি পত্রিকা ও একজন সাংবাদিকের পর্যবেক্ষণমাত্র। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা একটি প্রতিবেদনে পুরোপুরি উঠে আসে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদনের বিষয়ে দলীয় অবস্থান পরে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকার পর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী মূলধারার রাজনীতিতে নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির গবেষক ও বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্লেষক মুবাশার হাসান মনে করেন, জামায়াত এখন নির্বাচনি রাজনীতিতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় এবং তাদের সাংগঠনিক শক্তি দৃশ্যমান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জামায়াতে ইসলামী ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। ঢাকাতেও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। যদিও এসব বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্র ‘কূটনৈতিক রুটিন কাজ’ হিসেবেই ব্যাখ্যা করছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে