ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

নতুন বছরে সঞ্চয়পত্র নিয়ে সরকারের দুঃসংবাদ

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১৫:৪৮:৩২
নতুন বছরে সঞ্চয়পত্র নিয়ে সরকারের দুঃসংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আরও এক দফায় জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়েছে সরকার। আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার ঘোষণা করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে এই নতুন হার কার্যকর হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগেও গত জুলাই মাসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। ছয় মাস পরপর মুনাফার হার পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এবার আবারও তা কমানো হলো।

নতুন হার অনুযায়ী, কম অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলকভাবে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে, আর বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে কম। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই পরিমাণ বা এর কম বিনিয়োগে মুনাফার হার বেশি থাকবে। আর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে আসবে। আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করে থাকে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতাধীন সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র। এতদিন সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্তিতে এ সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা এখন কমিয়ে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ করা হয়েছে। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে আগে যেখানে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, এখন তা কমিয়ে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রেও মুনাফার হার কমানো হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে আগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা এখন ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ করা হয়েছে।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে আগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশে। আর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রেও মুনাফা কমানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে আগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা এখন ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ করা হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৫ সালের আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে ইস্যুকালীন সময়ের মুনাফার হারই মেয়াদ পূর্তি পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুনর্বিনিয়োগের তারিখে কার্যকর মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। আগামী ছয় মাস পর আবারও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

উল্লেখ্য, দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে সঞ্চয়পত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নিরাপত্তার মাধ্যম। বিপদের সময় অনেকেই সঞ্চয়পত্র ভেঙে সংসার সামাল দেন। আবার বহু পরিবারের মাসিক খরচের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে।

এদিকে, জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনো ৮ থেকে ৯ শতাংশের ঘরে অবস্থান করছে। ফলে নতুন বছরের শুরুতেই সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, বিশেষ করে যাদের পারিবারিক আয়ের বড় অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে