ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
Sharenews24

খেলাপি ঋণ পরিশোধে বাধ্য করা সফল বিচারককে বদলি

২০২৫ ফেব্রুয়ারি ২৫ ০৯:১১:১৪
খেলাপি ঋণ পরিশোধে বাধ্য করা সফল বিচারককে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের যুগ্ম জেলা জজ মুহাম্মদ মুজাহিদুর রহমানকে তার পদ থেকে সরিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে বদলি করা হয়েছে। তবে তাকে কোনো নির্দিষ্ট পদ দেওয়া হয়নি।

আজ সোমবার আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

মুজাহিদুর রহমান আলোচিত হয়েছেন ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা, পলাতক ঋণ খেলাপিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বন্ধক রাখা সম্পত্তির জন্য তত্ত্বাবধায়ক (রিসিভার) নিয়োগ করার মতো সিদ্ধান্ত। এর ফলে বড় ঋণ খেলাপিরা ঋণ পরিশোধে বাধ্য হন।

বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুজাহিদুর রহমানের কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে গত চার বছরে ঋণ আদায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষত, এস আলম গ্রুপ, আরামিট গ্রুপ, হাবিব গ্রুপ-মেসার্স ইলিয়াস ব্রাদার্স-রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠান মাহিন এন্টারপ্রাইজসহ বেশ কিছু বড় ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধ করেছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে বিচারাধীন বিভিন্ন ঋণ মামলা সংক্রান্ত ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, মুজাহিদুর রহমানের বদলি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, তার মতো একজন দক্ষ বিচারককে বদলি না করে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করেন, তার বদলি হওয়া ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে বিরাট নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত গত চার বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায় করেছে। এর পাশাপাশি অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকার মূল্যের বন্ধক সম্পত্তির মালিকানা ব্যাংকের কাছে এসেছে। এসব সাফল্যের পরও মুজাহিদুর রহমানের বদলি হওয়ায় ঋণ খেলাপি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের মাঝে সংশয় তৈরি হয়েছে।

চলতি বছর আদালত প্রথমবারের মতো ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করে। 'ফোরাম সেন্ট্রাল বিল্ডিং' নামে বন্ধক রাখা বাণিজ্যিক সম্পত্তির জন্য তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানটি ২৩ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করে।

এছাড়াও, 'মহল মার্কেট' নামক বন্ধক রাখা সম্পত্তির জন্য সমঝোতা করা হয় এবং এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ৬০ কোটি টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে ৫১ কোটি টাকা পরিশোধও করা হয়েছে।

অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা মনে করছেন, বিচারক মুজাহিদুর রহমানের বদলি আসলে ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ধরনের সুবিধা বয়ে আনতে পারে। তাদের মতে, তার কঠোর পদক্ষেপগুলো অনেক ঋণ খেলাপিকে ঋণ পরিশোধে বাধ্য করেছে এবং সে কারণে তার বদলি ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

কিছু আদালত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণে বিচারক মুজাহিদুর রহমানের কঠোর অবস্থান ঋণ আদায় প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকরী করে তুলেছিল। এখন তার বদলি অন্য বিচারকদের মনোবল দুর্বল করে দিতে পারে এবং সামগ্রিক ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেএইচ/

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে