×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে চেক জালিয়াতি, বিনিয়োগকারীর ৮৫ লাখ টাকা উধাও

২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৬:৪২:১৪
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে চেক জালিয়াতি, বিনিয়োগকারীর ৮৫ লাখ টাকা উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের (ডিবিবিএল) একটি শাখায় চেক জালিয়াতির মাধ্যমে এক নারীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ব্যাংকটির চার কর্মকর্তাসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত মামলার বাদীর বক্তব্য রেকর্ড করেছেন এবং ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (০৪ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আশরাফুল হকের আদালতে মামলাটি করেন নার্গিস আক্তার নামের ওই নারী। রাজধানীর ডেমরা এলাকার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ডানিয়া শাখায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তারা হলেন ডানিয়া শাখার সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপব্যবস্থাপক মোহিত মোরশেদ, সহকারী কর্মকর্তা সৌরভ সাহা, রেমিট্যান্স কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম এবং শাখা ব্যবস্থাপক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. গোলাম কিবরিয়া। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেড, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাকিম আলী সরদার, ব্যবস্থাপক কাজী এনামুল কবির এবং শওকত হাসান।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিজের জমি ও গাড়ি বিক্রির অর্থ এবং বাড়ি ও দোকানভাড়ার সঞ্চয় থেকে নার্গিস আক্তার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ডানিয়া শাখার হিসাবে মোট ১ কোটি ১১ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। বাদীর দাবি, তিনি নিজের নাম স্বাক্ষর করতে পারলেও পড়তে বা লিখতে পারেন না। এ কারণে ব্যাংকে চেকের মাধ্যমে টাকা জমা বা উত্তোলনের সময় কর্মকর্তারাই প্রয়োজনীয় তথ্য লিখে দিতেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় তিনি হিসাব থেকে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর ৫ লাখ টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্মকর্তারা ডিপিএস খোলার কথা বলে তাঁর চেক বইয়ের একটি চেকে স্বাক্ষর নেন। একই সঙ্গে আগে থেকে লেখা কয়েকটি ফাঁকা কাগজেও স্বাক্ষর করিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর তাঁকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর একই ব্যাংক থেকে আরও ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন নার্গিস আক্তার। কিন্তু ৪ অক্টোবর হিসাবের স্থিতি জানতে ব্যাংকে গেলে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর হিসাবে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বাকি অর্থের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর একটি চেকের মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এ লেনদেনের জন্য তিনি পজিটিভ পে ইনস্ট্রাকশন (পিপিআই) ফরমেও স্বাক্ষর করেছেন বলে তাঁকে জানানো হয়।

পরে ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট চেক, হিসাব বিবরণী ও পিপিআই ফরম সংগ্রহ করেন বাদী। সেগুলো যাচাই করে তাঁর স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মামলার বিবরণে বলা হয়, ব্যাংক কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে তাঁর চেক বইয়ের একটি চেকে স্বাক্ষর জাল করে টাকার পরিমাণ, প্রাপকের নাম ও তারিখ লিখে দেন। একইভাবে ওই চেকের ভিত্তিতে পিপিআই ফরমও তৈরি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চেকের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৮৫ লাখ টাকা গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের নামে পূবালী ব্যাংকের রাজবাড়ী শাখার হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে আসামি শওকত হাসান ওই অর্থ তুলে নেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

বাদীর আরও অভিযোগ, ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে একটি চেকের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা দেওয়া হলেও একই চেক বইয়ের আরেকটি চেক ব্যবহার করে ২৩ সেপ্টেম্বর ৮৫ লাখ টাকা পরিশোধ দেখানো হয়। তাঁর অজান্তে চেকটি ব্যাংক কর্মকর্তারা নিজেদের হেফাজতে রেখে পরবর্তী সময়ে জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৭৯, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৫, ৫৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে