×
ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

রুমিকে গ্রেপ্তারের খবর নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন রাশেদ খাঁন

২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১১:১৬:২১
রুমিকে গ্রেপ্তারের খবর নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন রাশেদ খাঁন

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচিত ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কোনো অভিযান চালাচ্ছে না। এমনকি তাঁকে গ্রেপ্তারের কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান। রাশেদ খাঁন বলেন, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, টঙ্গীর মাদরাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে পুলিশকে কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকটি গণমাধ্যমে রুমিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় একটি মাদরাসায় প্রথম শ্রেণির সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক ও ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ওই শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমির করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে আদালতে পাঠানো হয়। তবে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয় শিক্ষকের ওপর হামলা ও তাঁকে প্রকাশ্যে চড় মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি শিক্ষকের উদ্দেশে ‘কিসের চুমুরে’ বলে তাঁকে চড় মারছেন। ভিডিওতে শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে কথা বলতে এবং একপর্যায়ে চুমু দেওয়ার কথা উল্লেখ করতে শোনা যায়। এরপর শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি তাঁকে চড় মারেন। পরে সেখানে থাকা আরও কয়েকজন ওই শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ঘটনার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষও পাল্টা অভিযোগ তোলে। তাদের অভিযোগ, মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও শিক্ষকদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগে কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক পক্ষ শিশুটির বাবার পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্য পক্ষ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ও বিচার চাওয়ার পাশাপাশি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিরোধিতা করেছে।

শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ—দুটিই যথাযথ তদন্তের বিষয়। তবে ২৫ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন অস্বীকার করেছেন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে