×
ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ার পাঁচ দেশের শেয়ারবাজারে লোকসান, ব্যতিক্রম বাংলাদেশ

২০২৬ অক্টোবর ২৩ ১৪:৫৮:১৬
এশিয়ার পাঁচ দেশের শেয়ারবাজারে লোকসান, ব্যতিক্রম বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে ওঠানামা করলেও ২০২৬ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এশিয়ার নির্বাচিত সাতটি দেশের শেয়ারবাজারের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রিটার্ন দিয়েছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার। এ সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের রিটার্ন ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ। তালিকায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল শুধু পাকিস্তানের শেয়ারবাজার, যেখানে রিটার্ন ছিল ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে বাকি পাঁচ দেশের শেয়ারবাজারে এ সময়ে নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের এ অবস্থান সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে মালয়েশিয়ার শেয়ারবাজারে রিটার্ন ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৯ শতাংশ, ভিয়েতনামে ঋণাত্মক ৪ দশমিক ২ শতাংশ, শ্রীলংকায় ঋণাত্মক ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ভারতে ঋণাত্মক ৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ঋণাত্মক ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

এদিকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬১ ডলার। ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে ১১৮ ডলারে পৌঁছায়। পরে সেপ্টেম্বর শেষে দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে দাঁড়ায়। সব মিলিয়ে ডিসেম্বর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। শুধু মার্চ মাসেই দাম বেড়েছিল প্রায় ৬৩ শতাংশ।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। জ্বালানি আমদানিতে বেশি অর্থ ব্যয় হলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়তে পারে। পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব বিভিন্ন খাতের কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় ও মুনাফায় পড়তে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামাই শেয়ারবাজারের গতিপথ নির্ধারণ করে না; দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদহার, কোম্পানির আয়, নীতিগত অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে থাকার পাশাপাশি সেপ্টেম্বর মাসেও আঞ্চলিক বাজারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে সূচকের পতন ছিল সবচেয়ে কম। ওই মাসে ডিএসইএক্স সূচক কমেছে দশমিক ৮৫ শতাংশ। একই সময়ে শ্রীলংকার শেয়ারবাজারে সূচক কমেছে ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ভারতে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচকের অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৫৫০ পয়েন্ট। এ সময় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয়। হুথিদের হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২ শতাংশ বেড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সূচকের তুলনামূলক কম পতনকে শেয়ারবাজারের সার্বিক শক্তিশালী অবস্থানের একমাত্র প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সেপ্টেম্বরে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন আগের মাসের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সময়ে দরপতন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাজারের বিস্তৃতিতেও দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অর্থাৎ সূচকের পতন তুলনামূলক কম হলেও লেনদেনের পরিমাণ ও শেয়ারদরের সামগ্রিক প্রবণতায় চাপ ছিল।

সেপ্টেম্বরের পর অক্টোবরেও বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫ হাজার ৫৫০ পয়েন্টে। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর লেনদেন শেষে সূচকটি কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪৫১ পয়েন্টে। অর্থাৎ এ সময়ে সূচক হারিয়েছে ৯৯ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আঞ্চলিক তুলনায় ইতিবাচক অবস্থান ধরে রেখেছিল। তবে লেনদেন কমে যাওয়া এবং অক্টোবরেও সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে শুধু সূচকের রিটার্ন নয়, লেনদেন ও শেয়ারদরের সামগ্রিক অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে