×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

হীরা চোরাচালান থেকে হত্যা মামলা: ডিবির জালে দিলীপ আগরওয়ালা

২০২৬ অক্টোবর ২২ ১৮:৩৫:১৬
হীরা চোরাচালান থেকে হত্যা মামলা: ডিবির জালে দিলীপ আগরওয়ালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া ব্যাংকঋণ গ্রহণ এবং সোনা ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন ‘ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। তাঁর বিশাল সম্পত্তি, ব্যবসায়িক লেনদেন ও সন্দেহজনক আর্থিক কর্মকাণ্ডের সমস্ত তথ্য এখন পুরোপুরি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় উত্তরা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

অবৈধ সাম্রাজ্য ও ৩৩০ কোটির স্থাবর সম্পত্তি

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীতে দিলীপ আগরওয়ালার একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বহুতল ভবনের ফ্লোরের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে শান্তা রিয়েল এস্টেটের একটি ভবনে রয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ডুপ্লেক্স। এছাড়া গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ‘টাওয়ার অব আকাশ’ ও ‘শান্তা দ্য রিগ্যাল’ নামের বিলাসবহুল ভবনে তাঁর সাতটি ফ্লোরের আনুমানিক মূল্য ১৭০ কোটি টাকা এবং বনানীতে ১৮টি অ্যাপার্টমেন্টের বাজারমূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে তাঁর এসব স্থাবর সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ৩৩০ কোটি টাকা। ‘টাওয়ার অব আকাশ’ ভবনের নিচতলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের সাইনবোর্ডও দৃশ্যমান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেন এই ব্যবসায়ী। এই লোপাট করা অর্থের একটি অংশ দিয়েই তিনি ৪৫ কোটি টাকার বিনিময়ে বেঙ্গল গ্রুপে পরিচালকের পদ হাতিয়ে নেন। এছাড়া ‘এসটিএল’ নামের একটি বন্ডেড ওয়্যারহাউসের অংশীদারি ক্রয় এবং বন্ডের সুযোগ নিয়ে মদ আমদানি করে তা খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্যও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

৬৭৮ কোটি টাকার সোনা-হীরা নিয়ে সিআইডির অনুসন্ধান

২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত সোনা ও হীরার উৎস এবং হিসাব নিকাশ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে সিআইডি। এ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা আমদানির ও সংগ্রহের হিসাব পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস কোথায়, বিক্রেতারা কারা এবং এর পেছনে ব্যবহৃত অর্থের লেনদেন কতটা বৈধ—তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে দিলীপ আগরওয়ালাকে গত কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

উত্তরায় হত্যাচেষ্টার মামলায় ৪ দিনের রিমান্ড

এদিকে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিএনএস সেন্টারের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দিলীপকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার বাদী আবদুল জব্বার ওই দিন গুলিতে মারাত্মকভাবে জখম হন এবং পরবর্তীতে ২৭ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুমন মিয়া জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত করা এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্যই দিলীপ আগরওয়ালাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অপরিহার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, দিলীপ আগরওয়ালা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। দলটির ক্ষমতাধর শীর্ষ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী-মন্ত্রীদের পাশাপাশি পলাতক শেখ হাসিনা এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের নানা ছবি ও প্রমাণ ইতোমধ্যে সামনে এসেছে। বর্তমানে সিআইডি তাঁর বৈধ-অবৈধ আমদানির হিসাব, স্থানীয় বাজারের উৎস, শেয়ার মালিকানা এবং সমস্ত সম্পত্তির দলিলপত্র নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখছে।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে