×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

এনআইডিতে

নাম, বয়স, জন্মতারিখ ও ঠিকানা সংশোধন করবেন যেভাবে

২০২৬ অক্টোবর ২২ ১৭:৫৮:১৬
নাম, বয়স, জন্মতারিখ ও ঠিকানা সংশোধন করবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার আইডি কার্ডে নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, বয়স কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোন ধরনের তথ্য সংশোধন করতে হবে, তার ওপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ভর করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি।

নামের বানান সংশোধন, সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন, বাবা-মায়ের নাম সংশোধন, জন্মতারিখ পরিবর্তন এবং ঠিকানা হালনাগাদের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা নথি চাওয়া হতে পারে। আবেদন যাচাইয়ের সময় নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাইতে পারে।

১. এনআইডিতে নিজের নাম সংশোধনে যেসব কাগজ লাগবে

জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নামের বানান, আংশিক নাম কিংবা সম্পূর্ণ নাম সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট তথ্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নথি জমা দিতে হয়। সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো হলো—

এসএসসি, জেএসসি বা পিএসসি সনদ—যেটি প্রযোজ্য।

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।

পাসপোর্ট, যদি থাকে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স, যদি থাকে।

সন্তানের জন্মসনদ বা শিক্ষাগত সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

কাবিননামা বা বিবাহ সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

শুধু বানানের ভুল সংশোধন এবং সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণের ধরন এক নাও হতে পারে। সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথি বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা চাওয়া হতে পারে। তবে হলফনামা থাকলেই সংশোধন অনুমোদিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই; কর্তৃপক্ষের যাচাই সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২. বাবা-মায়ের নাম সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

এনআইডিতে বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি কিংবা সম্পূর্ণ নাম ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য তাঁদের পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

আবেদনকারীর শিক্ষাগত সনদ।

আবেদনকারীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।

বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র।

ভাই-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স, যদি থাকে।

সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সহায়ক নথি।

নাম সংশোধনের ধরন ও আবেদনের তথ্য অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল, করের রসিদ বা অন্যান্য প্রমাণপত্রও চাওয়া হতে পারে। আবেদন করার আগে নিজের এনআইডির তথ্যের সঙ্গে বাবা-মায়ের পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধনের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

৩. এনআইডিতে জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনে যা লাগবে

জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখের ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথির ধরন ভিন্ন হতে পারে।

সাধারণত যেসব নথি চাওয়া হতে পারে—

এসএসসি, জেএসসি বা পিএসসি সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।

ভাই-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রয়োজন অনুযায়ী।

ওয়ারিশ সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

কাবিননামা বা বিবাহ সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স, যদি থাকে।

প্রয়োজন হলে সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণসংক্রান্ত প্রতিবেদন।

চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বুক, এমপিও শিট বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র।

অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পেনশন বই বা সংশ্লিষ্ট নথি।

মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সনদ।

সব আবেদনকারীর জন্য সব কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ভর করে সংশোধনের কারণ, বিদ্যমান তথ্য এবং নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ের ওপর।

৪. এনআইডিতে স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা সংশোধন

জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করতে হলে নতুন ঠিকানার পক্ষে প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে। সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে—

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।

বিদ্যুৎ বিল বা ঠিকানার সমর্থনে গ্রহণযোগ্য ইউটিলিটি বিল।

চৌকিদারি কর বা পৌর কর পরিশোধের রসিদ।

ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাওয়া অন্যান্য সহায়ক নথি।

ঠিকানা সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর প্রকৃত বসবাসের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রযোজ্য নিয়ম বিবেচনা করা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কোন নথি গ্রহণ করা হবে, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

৫. এনআইডি সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সরকারি এনআইডি সেবা পোর্টাল ব্যবহার করা যায়। আবেদন করার সময় সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে।

প্রথম ধাপ: নির্বাচন কমিশনের সরকারি এনআইডি সেবা পোর্টাল services.nidw.gov.bd–এ প্রবেশ করুন।

দ্বিতীয় ধাপ: নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন অথবা প্রয়োজন হলে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।

তৃতীয় ধাপ: সংশোধনের জন্য নির্ধারিত অপশন নির্বাচন করে কোন তথ্য পরিবর্তন করতে চান, তা উল্লেখ করুন।

চতুর্থ ধাপ: সংশোধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে বা নির্দেশিত পদ্ধতিতে সংযুক্ত করুন।

পঞ্চম ধাপ: আবেদনপত্রের সব তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন, যদি প্রযোজ্য হয়।

ষষ্ঠ ধাপ: আবেদন জমা দিয়ে আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

আবেদন জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ নথি যাচাই করতে পারে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাওয়া বা সরেজমিন তদন্ত করা হতে পারে।

৬. আবেদন করার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার আগে জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য সরকারি নথিতে থাকা তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। একাধিক নথিতে নাম বা জন্মতারিখের অমিল থাকলে আবেদন যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সব ধরনের সংশোধনের জন্য একই কাগজপত্র বাধ্যতামূলক নয়। সংশোধনের ধরন ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি এনআইডি সেবা পোর্টাল অথবা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়াই ভালো।

সঠিক তথ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দিয়ে আবেদন করলে এনআইডি সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। তবে আবেদন অনুমোদন ও নিষ্পত্তির সময় নির্ভর করবে নথির যথার্থতা এবং কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের ওপর।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে