×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর খরচ বাড়ল, সামনে বড় ঝুঁকি

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৯:২৩:৩৮
প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর খরচ বাড়ল, সামনে বড় ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের খরচ বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রতি ১ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠাতে গড়ে খরচ হয়েছে ১৮ দশমিক ২০ ডলার। এর আগের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে একই পরিমাণ অর্থ পাঠাতে ব্যয় হয়েছিল ১৭ দশমিক ৮০ ডলার। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে প্রতি ১ হাজার ডলারে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যয় বেড়েছে ৪০ সেন্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যয় বৃদ্ধির এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজের সেবামূল্য বৃদ্ধি, বিভিন্ন ধরনের ফি ও কর এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামা—এসব কারণে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ ছিল ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৮২ শতাংশে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় অঙ্কের তুলনায় কম পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের খরচ তুলনামূলক বেশি হয়। ২০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে জানুয়ারি-মার্চে গড় ব্যয় ছিল ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এপ্রিল-জুনে তা আরও বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

তবে ২০০ থেকে ৫০০ ডলার রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যয় কিছুটা কমেছে। এই শ্রেণিতে খরচ ০ দশমিক ৯৬ শতাংশ থেকে নেমে হয়েছে ০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর ৫০০ ডলারের বেশি পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যয় ০ দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ০ দশমিক ৫০ শতাংশ হয়েছে। ফলে বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানোর তুলনায় ছোট অঙ্কের রেমিট্যান্সে প্রবাসীদের খরচ বেশি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বেশিরভাগ দেশ থেকেই ২০০ ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। এ তালিকায় উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কাতার, ইতালি, ওমান ও যুক্তরাজ্য।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় ব্যয় জানুয়ারি-মার্চে ছিল ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এপ্রিল-জুনে তা বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৯২ শতাংশ। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ১ দশমিক ০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১২ শতাংশে।

কাতার থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ১ দশমিক ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ২৮ শতাংশ হয়েছে। ইতালি থেকে তা ১ দশমিক ১৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ ছাড়া ওমান থেকে ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্য থেকে ১ দশমিক ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

অবশ্য কয়েকটি দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যয় কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর। সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ২ দশমিক ৫২ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ হয়েছে। কুয়েত থেকে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১ দশমিক ১১ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি কমেছে সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যয়। জানুয়ারি-মার্চে দেশটি থেকে বাংলাদেশে অর্থ পাঠাতে গড়ে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ খরচ হলেও এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৯৮ শতাংশে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকলে প্রবাসীদের একটি অংশ কম ব্যয়ের বিকল্প খুঁজতে পারেন। এতে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বৈধ পথে দেশে প্রবাসী আয় আসার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংককে আগেভাগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে যেসব দেশে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যয় তুলনামূলক বেশি, সেসব দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজের সঙ্গে আলোচনা করে দ্বিপক্ষীয়ভাবে খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

এদিকে বিদেশ থেকে দেশে রেমিট্যান্স আসার পর তা প্রবাসীদের স্বজনদের কাছে ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার ব্যয় কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে দেশের অভ্যন্তরে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বিতরণের খরচ কিছুটা কমেছে।

তবে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যয় বাড়তে থাকায় বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও খরচ কমানোর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করা গেলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধরে রাখা সম্ভব হবে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে