×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

হাসিনা ফিরলেই বদলে যেতে পারে ৫ হিসাব! 

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ০৯:১১:৩৫
হাসিনা ফিরলেই বদলে যেতে পারে ৫ হিসাব! 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান। পরে আগস্টেও তিনি ডিসেম্বরকে দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার এই ঘোষণার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনগত প্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিএনপির কৌশল, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং আদালতকেন্দ্রিক পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে—তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

তবে এসব সম্ভাব্য পরিবর্তন এখনো অনুমাননির্ভর। শেখ হাসিনা বাস্তবে কখন এবং কীভাবে দেশে ফিরবেন, ফিরলে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো কী অবস্থান নেবে—এসব বিষয় সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

১. আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হতে পারে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো এবং আদালতের রায় অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সামনে আসবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ২০২৫ সালের নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করায় তার আপিলের সুযোগ নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ফলে তিনি দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে ঠিক কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইন ও আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

২. আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এবং দলের অনেক নেতা-কর্মী বিভিন্ন মামলায় রয়েছেন বা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজে এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

তার দেশে ফেরার ঘোষণা দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক তৎপরতার প্রশ্ন সামনে আনতে পারে। তবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনর্গঠন বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কোন পথে যাবে, তা নির্ভর করবে দলটির আইনগত ও রাজনৈতিক অবস্থার ওপর।

৩. বিএনপির কৌশলেও আসতে পারে পরিবর্তন

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের জন্যও নতুন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে দলগুলোর কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে কোনো দল কী ধরনের কৌশল নেবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বাস্তব পরিস্থিতি, সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করবে।

৪. বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও বাড়বে গুরুত্ব

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে এবং ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের কাছে আইনি প্রক্রিয়ার অধীন রয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিষয়টি আইনগত বিষয় এবং প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী তা বিবেচনা করা হবে।

এ কারণে শেখ হাসিনা যদি নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন, তাহলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে তার ফেরার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা কী হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।

৫. আদালতকেন্দ্রিক লড়াই আরও আলোচনায় আসতে পারে

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বহু মামলা রয়েছে।

২০২৬ সালের আগস্টের প্রতিবেদনে পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সারা দেশে ৬৬৩টি মামলা রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের রায় হলেও অন্য মামলাগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ায় চলবে।

ফলে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো, আদালতে আত্মসমর্পণ, গ্রেপ্তার, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ—সবকিছুই রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বড় আইনগত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

শেখ হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের বিষয়টি ২০২৪ সালেই শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সরকার শেখ হাসিনাসহ মোট ৯৭ জনের পাসপোর্ট বাতিলের কথা জানায়।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভারত তার ভিসা বাড়িয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বর্তমান সুনির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তাই তার ভিসার মেয়াদ ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত—এমন তথ্যকে বর্তমান তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না।

সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে নানা প্রশ্ন সামনে এনেছে। আইনগত প্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান, বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর কৌশল এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এসব সম্ভাব্য পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপ নির্ভর করবে তিনি বাস্তবে দেশে ফেরেন কি না এবং ফিরলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলো কী পদক্ষেপ নেয় তার ওপর।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে