×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ ৭ মাস পর উৎপাদন শুরু, মাত্র দুই দিনেই আবারও বন্ধ

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৫:০৪:২৩
দীর্ঘ ৭ মাস পর উৎপাদন শুরু, মাত্র দুই দিনেই আবারও বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ৭ মাস ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায়। বয়লারে নতুন করে লিকেজ দেখা দেওয়ায় কারখানাটিতে ইউরিয়া উৎপাদন পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বিরতির পর গত সোমবার মধ্যরাতে যমুনা সার কারখানায় পুনরায় সার উৎপাদন শুরু হয়। তবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরের দিকে বয়লারে লিকেজ ধরা পড়লে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

কারখানার উৎপাদন প্রধান ফজলুল হক জানান, বয়লারে সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ইউরিয়া উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কারখানার অন্যান্য কার্যক্রম সচল রয়েছে এবং অ্যামোনিয়া উৎপাদন অব্যাহত আছে। দ্রুত ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে আবারও ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

যমুনা সার কারখানার তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের মোট ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে। প্রায় ১ হাজার ৯০০ বিসিআইসি ডিলারের মাধ্যমে এসব এলাকায় কারখানার উৎপাদিত সার পৌঁছে দেওয়া হয়।

কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন। তবে গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদন করা সম্ভব হয়। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন হলে মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয় বলে কারখানা সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক ৬০ কোটি টাকা মুনাফা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা গ্যাস বিল দিতে হয়। ফলে দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকা অবস্থায়ও বড় ধরনের আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এর আগেও দীর্ঘ সময় ধরে কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা ২৩ মাস যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটের কারণে আবারও কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়।

সম্প্রতি গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হলে দীর্ঘ বিরতির পর কারখানাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। উৎপাদন শুরুর পর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার আশা তৈরি হলেও মাত্র দুই দিনের মাথায় বয়লার লিকেজের কারণে আবারও ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।

কর্তৃপক্ষের আশা, দ্রুত যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে। তবে বারবার গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সার কারখানার স্থায়ী উৎপাদন নিশ্চিত করা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে