×
ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের গ্রেনেডে উড়ে গেল শিক্ষার্থীর হাত

২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৮:৪৩:১৭
পুলিশের গ্রেনেডে উড়ে গেল শিক্ষার্থীর হাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সজুড়ে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের ব্যবহৃত স্টান গ্রেনেড সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনার পর দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) উত্তরাঞ্চলীয় শহর লঁসে ওই কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার বন্ধ থাকবে। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে বিক্ষোভকারী ও সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে রয়েছে স্পষ্ট ভিন্নতা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, লঁসের অগুস্ত বেহাল উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়ে ওই কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, মাটিতে পড়ে থাকা গ্রেনেডটি কিশোরটি তুলে নেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এক পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি কিশোরটির দিকে গ্রেনেডটি ছুড়ে দিয়েছিলেন।

স্থানীয় প্রিফেক্ট জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সময় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ শিক্ষার্থী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও আতশবাজি ছুড়ছিল। পুলিশের ব্যবহৃত স্টান গ্রেনেড সাধারণত প্রাণঘাতী নয়—এমন অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। বিস্ফোরণের সময় এটি ছোট রাবারের পেলেট ছুড়ে দেয়।

পুলিশের আচরণ মাত্রাতিরিক্ত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ জানান, এ বিষয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইজিপিএন মোট ১৮টি তদন্ত শুরু করেছে। লঁসের কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্যও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে ঘটনার প্রকৃত তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে পুলিশের একটি ইউনিয়ন। ইউএনএসএ পুলিশের জাতীয় সম্পাদক জ্যঁ-পল নাসিমেন্তো বলেন, আবেগের ভিত্তিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার আশঙ্কা, জনতা ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশের হাতে এ অস্ত্র না থাকলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের আরও সরাসরি সংঘর্ষ হতে পারে। এতে আহতের সংখ্যা উল্টো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গত সপ্তাহে ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোরের মুখে টিয়ার গ্যাসের গ্রেনেড আঘাত করেছিল। এতে তার কয়েকটি দাঁত পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি চোয়াল ভেঙে যায় বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। ওই ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগও গঠন করা হয়েছে।

এদিকে বুধবারও ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ও অস্থিরতা অব্যাহত ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এদিন ৫০০টির বেশি স্কুল পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে বন্ধ ছিল। এর মধ্যে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব স্কুলকে কয়েক সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হবে। ফলে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এর আগে মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোথাও কোথাও পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ওইদিন ৪৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ৪৩ জন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাদের সঙ্গে অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ আন্দোলনে আহত হয়েছেন ২১৫ শিক্ষার্থী, ৮৫ জন স্কুলকর্মী এবং ৭১৫ পুলিশ সদস্য।

ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ ও সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় মঙ্গলবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। প্রধানমন্ত্রীর সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

তবে উত্তেজনা থামার কোনো লক্ষণ নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে