×
ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে রেনেটার ধারাবাহিক উন্নতি, শিগগিরই আসছে সুখবর

২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১১:৩৬:২২
বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে রেনেটার ধারাবাহিক উন্নতি, শিগগিরই আসছে সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রেনাটা পিএলসি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আর্থিক কার্যক্রমে ধারাবাহিক উন্নতির ধারা ধরে রেখেছে। অর্থবছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিটি পর্যায়েই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেড়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শুধু আর্থিক সূচকেই নয়, কোম্পানিটি এ সময়ে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে নতুন ওষুধ বাজারজাত, বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক অনুমোদন অর্জন, উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার এবং মূলধন কাঠামো পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে ব্যবসার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক ভিত্তিও আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে।

নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ

রেনাটার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়ে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৮১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ ইপিএস ছিল ৫ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ৬৯ পয়সা।

অন্যদিকে, জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৩৯ পয়সা। আগের বছরের জুলাই ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫ সময়ে ইপিএস ছিল ১৫ টাকা ৯৫ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ৪ টাকা ৪৪ পয়সা বা প্রায় ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

এতে স্পষ্ট হয়, শুধু কোনো একটি প্রান্তিকের ওপর নির্ভর করে নয়, পুরো অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই রেনাটার মুনাফা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকেও ছিল শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও রেনাটার আর্থিক ফলাফলে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ১১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৫ টাকা ৬৪ পয়সা।

ছয় মাসের হিসাবে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে সমন্বিত ইপিএস দাঁড়ায় ১৩ টাকা ৫৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ১০ টাকা ৮৩ পয়সা ছিল।

অর্থাৎ প্রথম ছয় মাসেই কোম্পানির ইপিএস আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিচালন মুনাফায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এবং মূলধন পুনর্গঠন উদ্যোগের ফলে নিট অর্থায়ন ব্যয় কমে যাওয়াই ইপিএস বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তবে বেশি আয়কর ব্যয় এই প্রবৃদ্ধির একটি অংশকে কিছুটা কমিয়েছে।

পরিচালন নগদ প্রবাহে বড় পরিবর্তন

রেনাটার আর্থিক উন্নতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহের বৃদ্ধি। জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস হয়েছে ২২ টাকা ৪০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২১ টাকা ৭৬ পয়সা।

এর আগে দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে ছয় মাসে এনওসিএফপিএস দাঁড়িয়েছিল ১২ টাকা ৮৭ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ টাকা ৬০ পয়সা।

কোম্পানি জানিয়েছে, পরিচালন মুনাফায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর চলতি মূলধন ব্যবস্থাপনা এ উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ছয় মাসের তুলনায় ২০২৫ সালের একই সময়ে মজুদ এবং বাণিজ্যিক ও অন্যান্য পাওনায় আটকে থাকা নগদের পরিমাণ কমেছে। পাশাপাশি অবচয় ও পরিশোধন ব্যয়ের মতো নগদবিহীন সমন্বয়ও কর-পূর্ব মুনাফা থেকে পরিচালন নগদ প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

প্রথম প্রান্তিক থেকেই উন্নতির শুরু

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও কোম্পানির আর্থিক সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়ে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৪৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ১৯ পয়সা।

একই সময়ে এনওসিএফপিএস বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা ৬১ পয়সা। আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ সূচক ছিল ঋণাত্মক ৪ পয়সা।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাজস্ব ও মুনাফার মার্জিন বাড়ায় পরিচালন মুনাফা এবং ইপিএস বেড়েছে। শক্তিশালীভাবে পাওনা আদায় এবং চলতি মূলধনে নগদ বহিঃপ্রবাহ নিয়ন্ত্রিত থাকার কারণে এনওসিএফপিএসেও বড় উন্নতি হয়েছে।

এনএভি বৃদ্ধির পেছনে মূলত জমাকৃত মুনাফা বা রিটেইনড আর্নিংসের ভূমিকা ছিল।

এনএভিতেও ধারাবাহিক উত্থান

রেনাটার শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিতেও ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে এনএভি ছিল ৩০৫ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১২ টাকা ১ পয়সা।

এরপর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে এনএভি আরও বেড়ে হয় ৩১৩ টাকা ৪৮ পয়সা। সর্বশেষ ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৩২০ টাকা ২ পয়সা।

অর্থাৎ নয় মাসে শেয়ারপ্রতি এনএভি বেড়েছে ১৪ টাকা ৫৩ পয়সা।

মূলধন পুনর্গঠনেও গুরুত্ব দিয়েছে রেনাটা

রেনাটার আর্থিক ফলাফলের উন্নতির পেছনে পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি মূলধন কাঠামো পুনর্গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, মূলধন পুনর্গঠন উদ্যোগের কারণে নিট অর্থায়ন ব্যয় কমেছে, যা ইপিএস বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়তা করেছে।

এদিকে কার্যকর চলতি মূলধন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মজুদ ও পাওনায় আটকে থাকা নগদ কমানো এবং রাজস্ব থেকে অর্থ সংগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ পরিচালন নগদ প্রবাহকে শক্তিশালী করেছে।

ইউরোপের বাজারে নতুন পণ্য

দেশের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রেনাটা সম্প্রসারণের উদ্যোগ জোরদার করেছে। ফিনল্যান্ডের বাজারে কোম্পানিটি অ্যামান্টাডিন ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুল ‘পারকাডিন’ চালু করেছে। এটি ফিনল্যান্ডে অ্যামান্টাডিনের প্রথম এবং একমাত্র নিবন্ধিত জেনেরিক হিসেবে বাজারজাত করা হয়েছে। একই সময়ে ডেনমার্ক, সুইডেন ও নরওয়েতেও পণ্যটি চালু করা হয়েছে।

পণ্যটি রেনাটার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভালো উৎপাদন চর্চা বা ইইউ-জিএমপি অনুমোদিত রাজেন্দ্রপুর জেনারেল ফ্যাসিলিটিতে উৎপাদিত হচ্ছে। পারকাডিন পারকিনসন রোগের উপসর্গগত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় এবং এককভাবে অথবা লেভোডোপার সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া যেতে পারে।

কোম্পানির মতে, এ উদ্যোগ ইউরোপে রেনাটার উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে মানসম্মত ও সহজলভ্য ওষুধ সরবরাহের অঙ্গীকারকে এগিয়ে নিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে হাইড্রোকর্টিসোন বাজারজাত

রেনাটা যুক্তরাজ্যের বাজারেও হাইড্রোকর্টিসোন ৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট বাজারজাত শুরু করেছে। অ্যাড্রিনাল কর্টেক্সের অকার্যকারিতায় প্রতিস্থাপন চিকিৎসায় ব্যবহৃত এ কর্টিকোস্টেরয়েডের ৫ মিলিগ্রাম মাত্রা চিকিৎসকদের রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী ডোজ নির্ধারণে বাড়তি সুবিধা দেয়।

পণ্যটি মিরপুরে অবস্থিত রেনাটার যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদিত এবং ইইউ-জিএমপি সনদপ্রাপ্ত বিশেষায়িত উৎপাদন কারখানায় তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে রেনাটা ইউকে লিমিটেডের নামে এটি বাজারজাত করা হবে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের বাজারে এই মাত্রার ওষুধ সরবরাহকারী অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একটি রেনাটা। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রিত বাজারে কোম্পানির উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

তুরস্কের নিয়ন্ত্রক অনুমোদন

রেনাটার রাজেন্দ্রপুর জেনারেল ফ্যাসিলিটি তুরস্কের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংস্থার নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে ওই কারখানায় উৎপাদিত ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলজাত ওষুধ তুরস্কে নিবন্ধন ও সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থিত তুরস্ককে রেনাটা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচনা করছে। এ অনুমোদন কোম্পানির আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজেন্দ্রপুর কারখানাটি ইতোমধ্যে ইইউ-জিএমপি ও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা ইউএস-এফডিএসহ কঠোর নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে। তুরস্কে অ্যামান্টাডিনের অনুমোদনও আগামী এক বছরের মধ্যে পাওয়ার প্রত্যাশা করছে কোম্পানি।

ইউরোপে থাইরয়েডের ওষুধের অনুমোদন

লেভোথাইরক্সিন সোডিয়াম ট্যাবলেটের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেসেন্ট্রালাইজড পদ্ধতিতে অনুমোদন পেয়েছে রেনাটা। আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও মাল্টায় এ অনুমোদন কার্যকর হয়েছে।

ওষুধটি রেনাটার ইইউ-জিএমপি অনুমোদিত বিশেষায়িত উৎপাদন কারখানায় তৈরি হবে। নতুন অনুমোদিত ইউরোপীয় বাজারগুলোতে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে লেভোথাইরক্সিন সরবরাহের লক্ষ্য নিয়েছে কোম্পানিটি।

পর্তুগালে প্রথম থেরাপিউটিকস চালান

ইউরোপে ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে পর্তুগালে প্রথম থেরাপিউটিকসের চালান পাঠিয়েছে রেনাটা। এ চালানে রয়েছে রাজেন্দ্রপুরের ইইউ-জিএমপি অনুমোদিত কারখানায় উৎপাদিত অ্যামান্টাডিন ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুল।

এর পাশাপাশি মিরপুরের ইইউ-জিএমপি অনুমোদিত বিশেষায়িত কারখানায় উৎপাদিত ফ্লুড্রোকর্টিসোন ০.১ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট এবং ক্যাবারগোলিন ০.৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেটও রয়েছে।

পর্তুগালের বাজারে প্রবেশ ইউরোপে রেনাটার দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে এসোমিপ্রাজলের অনুমোদন

যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ থেকে এসোমিপ্রাজল ২০ মিলিগ্রাম ও ৪০ মিলিগ্রাম গ্যাস্ট্রো-রেজিস্ট্যান্ট ট্যাবলেটের বিপণন অনুমোদন পেয়েছে রেনাটা।

এ অনুমোদনের ফলে বিশ্বের অন্যতম কঠোর নিয়ন্ত্রিত ওষুধের বাজার যুক্তরাজ্যে পণ্যটি বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ক্রেডিট রেটিংয়েও সর্বোচ্চ মান

রেনাটার আর্থিক সক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হলো ক্রেডিট রেটিং। আলফা ক্রেডিট রেটিং পিএলসি কোম্পানিটিকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণমানের ক্ষেত্রে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’ রেটিং দিয়েছে। এ রেটিংয়ের সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি রাখা হয়েছে ‘স্থিতিশীল’।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের ৩০ জুন সমাপ্ত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ নজরদারি রেটিং দেওয়া হয়েছে।

পছন্দনীয় শেয়ারের লেনদেন শুরু

রেনাটার ইস্যু করা পছন্দনীয় শেয়ারের লেনদেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এটিবি প্ল্যাটফরমে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হয়েছে। এসব পছন্দনীয় শেয়ারের লেনদেন কোড ‘রেনাটাপিএস’ এবং স্ক্রিপ কোড ‘৪৭০০১’।

পছন্দনীয় শেয়ারের ইস্যু মূল্য ছিল প্রতিটি ১ হাজার ৯০০ টাকা। এর মেয়াদ সংশ্লিষ্ট সাবস্ক্রিপশন সম্পন্ন হওয়ার তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ছয় বছর। সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর না হওয়া বিনিয়োগের ওপর লভ্যাংশের হার ১৫ শতাংশ এবং তা বার্ষিক ভিত্তিতে পরিশোধযোগ্য।

শেয়ারগুলো অ-সঞ্চিত, অ-অংশগ্রহণমূলক এবং সম্পূর্ণ রূপান্তরযোগ্য। তালিকাভুক্তির জন্য ইস্যুর আকার ৩২৫ কোটি টাকা। তৃতীয় বছর শেষে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর শুরু হবে। চার ধাপে প্রতিটি রূপান্তর পর্বে ৪৭৫ টাকা নির্ধারিত মূল্যে পছন্দনীয় শেয়ার সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর হবে। ইস্যু মূল্যের ভিত্তিতে সার্কিট ব্রেকার ৫ শতাংশ।

সামনে এজেন্ডায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব

আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কোম্পানিটির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনাকরে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে।

এখানেই এখন বিনিয়োগকারীদের অন্যতম প্রধান আগ্রহ—টানা তিন প্রান্তিকে আর্থিক সূচকের উন্নতির পর চূড়ান্ত অর্থবছরের ফলাফল কী দাঁড়ায় এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ডিভিডেন্ডের পরিমাণ কত হয়।

ডিভিডেন্ড বাড়ার সম্ভাবনা কতটা?

রেনাটা ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য ৫৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। বর্তমানে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ইপিএস ২০ টাকা ৩৯ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৫ টাকা ৯৫ পয়সা। একই সময়ে এনওসিএফপিএসও ২১ টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বেড়ে ২২ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে এবং এনএভি ৩০৫ টাকা ৪৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৩২০ টাকা ২ পয়সায় পৌঁছেছে।

এই আর্থিক সূচকগুলো কোম্পানির ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে মুনাফা বৃদ্ধি, পরিচালন নগদ প্রবাহের উন্নতি এবং এনএভি বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগের বছরের ৫৫ শতাংশের তুলনায় বেশি ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে।

তবে ডিভিডেন্ড বাড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব এবং নগদ সংরক্ষণ, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর চূড়ান্ত ডিভিডেন্ড নির্ভর করবে। আগামী ১৭ অক্টোবরের পর্ষদ সভায় নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিবেচনার পর এ বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।

সব মিলিয়ে রেনাটার চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে মুনাফা, পরিচালন নগদ প্রবাহ ও সম্পদমূল্য—তিন ক্ষেত্রেই আগের বছরের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। এর সঙ্গে ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের মতো নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, নতুন ওষুধের অনুমোদন, উৎপাদন কারখানার নিয়ন্ত্রক স্বীকৃতি এবং মূলধন পুনর্গঠনের উদ্যোগ যুক্ত হয়েছে। ফলে রেনাটার সামনে শুধু বর্তমান আর্থিক ফলাফল ধরে রাখাই নয়, আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ আয়ের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে