×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবশেষে ৪ বছর পর বাংলাদেশিদের সুখবর

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১২:১৮:৪৩
অবশেষে ৪ বছর পর বাংলাদেশিদের সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলতে শুরু করেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। নীরবে প্রক্রিয়া শুরুর অংশ হিসেবে একটি মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠানের চাহিদার বিপরীতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য চাহিদাপত্র সত্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে এ নিয়োগপ্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য দুই দেশের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক, আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান। সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আবারও কর্মী নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। এরপরই নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ বা মালয়েশিয়া—কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন করে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, কোন কোন রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ করতে পারবে এবং একজন কর্মীর মালয়েশিয়া যেতে মোট কত টাকা খরচ হবে—এসব বিষয়ও এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ও ব্যয়ের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নির্দেশনা না আসায় এরই মধ্যে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মালয়েশিয়ায় চাকরির নানা বিজ্ঞাপন, দ্রুত কর্মী পাঠানোর আশ্বাস এবং বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। ফলে শ্রমবাজার খোলার সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রতারণার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত চাকরিপ্রত্যাশীদের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কথায় অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

এর আগে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ফলে এবার শ্রমবাজার চালুর শুরুতেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের একটি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই সুযোগ কতটা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, অভিবাসন ব্যয় এবং দালালচক্র নিয়ন্ত্রণের ওপর।

সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো, কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করা এবং বৈধ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করা। আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও খরচের কাঠামো প্রকাশের পরই মালয়েশিয়ায় নতুন করে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর

উ
প
রে