×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কুলের পোশাকে বেরিয়ে গন্তব্য ছিল ভারত, বিপাকে ৩ বন্ধু

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ০৯:২৭:০৫
স্কুলের পোশাকে বেরিয়ে গন্তব্য ছিল ভারত, বিপাকে ৩ বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তিন কিশোরী। বাসে করে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছালেও সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পথে তারা দিক হারিয়ে ফেলে। পরে কুড়িগ্রাম শহরে তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী তাদের নিজের বাসায় নিয়ে যান। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, তিন কিশোরীই পাবনা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং পরস্পরের বন্ধু। তাদের মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির এবং অন্য দুজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। রোববার সকালে তারা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে স্কুলে না গিয়ে তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাসে করে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।

পুলিশের ভাষ্য, সম্প্রতি তিন কিশোরীর একজনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মনোমালিন্য হয়। এরপর তিন বন্ধু মিলে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিও দেখা এবং বিদেশে যাওয়ার প্রতি আগ্রহ থেকেই তারা দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের প্রতিও তাদের আগ্রহ ছিল বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কুড়িগ্রামে পৌঁছানোর পর সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। তবে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে তিন কিশোরী। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পর তারা রাত কাটানোর জন্য জায়গা খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় তাদের ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়।

তাদের আচরণ ও গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর। তিনি কৌশলে তিন কিশোরীকে নিজের বাসায় নিয়ে যান এবং বিষয়টি তার স্বামী কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজউদ্দিন আহমেদকে জানান। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় গিয়ে কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিচয় ও বাড়ির ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে কিশোরীদের কাছ থেকে পাবনার ঠিকানা পাওয়া যায়। পরে এসআই তাজউদ্দিন বিষয়টি কুড়িগ্রাম সদর থানাকে জানান এবং পাবনা সদর থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই সময়ে তিন কিশোরী বাড়িতে ফিরে না আসায় তাদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তাদের নিখোঁজের ঘটনায় পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাস টার্মিনাল এলাকার সরকারি কোয়ার্টারের সামনে তিন কিশোরীকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তার স্ত্রী সন্দেহ করেন। পরে তাদের বাসায় নিয়ে আসা হয়। তিনি কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বাড়ির ঠিকানা নিশ্চিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ঘটনাটি কুড়িগ্রামের কোনো নিখোঁজের ঘটনা নয়। পাবনা পুলিশকে সহযোগিতা করে তিন কিশোরীকে উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, তিন কিশোরীর নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করে। কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজউদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

পরে সোমবার দুপুরে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তিন কিশোরীকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে