×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিহারিরা ভারতের মানুষ হয়েও কেন পাকিস্তানে?

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১০:২৩:৩৩
বিহারিরা ভারতের মানুষ হয়েও কেন পাকিস্তানে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘বিহারি’ নামে পরিচিত জনগোষ্ঠীর পাকিস্তানে বসবাসের পেছনে রয়েছে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের জটিল ইতিহাস। তাদের সবাইকে সরাসরি ‘ভারতের মানুষ’ হিসেবে চিহ্নিত করা ঐতিহাসিকভাবে পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ, দেশভাগের আগে তারা ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করতেন এবং ১৯৪৭ সালের পর তাদের একটি অংশ তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হলে ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে চলে যান। তৎকালীন বিহার, উত্তর প্রদেশ ও ভারতের অন্যান্য এলাকা থেকে উর্দুভাষী মুসলমানদের একটি অংশ পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিবাসন করেন। এদের অনেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেও বসতি স্থাপন করেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বসবাসকারী উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর একটি অংশ পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়। যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তাদের একটি বড় অংশ নিজেদের পাকিস্তানি হিসেবে পরিচয় দিতে থাকে এবং পাকিস্তানে যাওয়ার আবেদন করে।

তবে যুদ্ধের পর সবাই পাকিস্তানে যেতে পারেননি। বহু উর্দুভাষী মানুষ বাংলাদেশেই থেকে যান এবং কয়েক দশক ধরে নাগরিকত্ব ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত জটিলতার মধ্যে ছিলেন। পরে বাংলাদেশের আদালতের বিভিন্ন রায়ের মাধ্যমে দেশে জন্মগ্রহণকারী ও বসবাসকারী উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্বের অধিকার স্বীকৃত হয়।

অন্যদিকে পাকিস্তানে যাওয়া বা পাকিস্তানে বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীকে সাধারণভাবে ‘বিহারি’ বলা হলেও তাদের সবার পূর্বপুরুষের বাড়ি বিহারে ছিল না। তাই ‘বিহারি’ পরিচয়টি অনেক ক্ষেত্রে একটি বৃহত্তর উর্দুভাষী অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

অর্থাৎ, তারা ‘ভারতের নাগরিক হয়েও পাকিস্তানে’—বিষয়টি এমন সরল নয়। মূল বিষয়টি হলো ব্রিটিশ ভারতের দেশভাগ, ১৯৪৭ সালের অভিবাসন এবং ১৯৭১ সালের পর তৈরি হওয়া নাগরিকত্ব ও পুনর্বাসনের জটিল ইতিহাস।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে