×
ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিনিয়োগকারীদের স্বস্তির বার্তা, মশিহর সিকিউরিটিজের পাওনা ফেরত দেওয়া শুরু

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২২:০৫:৩৩
বিনিয়োগকারীদের স্বস্তির বার্তা, মশিহর সিকিউরিটিজের পাওনা ফেরত দেওয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে পাওনা অর্থ ফেরতের অপেক্ষায় থাকা মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য শুরু হলো অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের যেসব বিনিয়োগকারী ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মধ্যে ডিএসইতে অভিযোগ দাখিল করেছেন, তাদের যাচাইকৃত পাওনা অর্থ ডিএসই ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জন বিনিয়োগকারীর হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে মশিহর সিকিউরিটিজের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।

চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি নিজ হাতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চেক হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির কমিশনার মোঃ নাফিজ আল তারিক, সিএফএ, হোসেইন শাদাত, এফসিএস, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা, ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসরীন বেগম, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ডিবিএর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা, ডিএসইর সিনিয়র সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দ ও স্বস্তির। দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তা সমাধানের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আজকের অর্থ পরিশোধ সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। পর্যায়ক্রমে সব যাচাইকৃত বিনিয়োগকারীর প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ লক্ষ্যে ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাক-অফিস ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও সিসি অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগকারীদের অর্থের অবস্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার এই সময়ে এ ধরনের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, আজকের এই উদ্যোগ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টার ফল নয়। বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ড এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করে যাবে।

এর আগে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের যাচাইকৃত পাওনা অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হওয়া ডিএসই এবং দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও স্বার্থ সুরক্ষা একটি সুশৃঙ্খল ও টেকসই পুঁজিবাজারের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে ১৭ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি যাচাইকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করা হবে। তবে যেসব বিনিয়োগকারীর সম্পূর্ণ পাওনা এই পর্যায়ে পরিশোধ করা সম্ভব হবে না, তাদের অবশিষ্ট অর্থ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দ্রুত পরিশোধের জন্য ডিএসই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।

বিএসইসির কমিশনার নাফিজ আল তারিক বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিটি সংস্কার, সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

বিএসইসির কমিশনার হোসেইন শাদাত বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শুধু স্বীকার করাই যথেষ্ট নয়। এর যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণও জরুরি।

ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের চেয়ারম্যান নাসরীন বেগম বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং পুঁজিবাজারে আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রাখা তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আজকের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সেই দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য আজকের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তির বার্তা।

তিনি আরও বলেন, ব্রোকারেজ কমিউনিটির অবদানে গঠিত ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ডের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়ানো পুঁজিবাজারে পারস্পরিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এই উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের প্রতি তাদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, DHAKA STOCK EXCHANGE (INVESTORS’ PROTECTION FUND) REGULATIONS, 2014-এর ১৬(৭) অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের মোট ৯ হাজার ৩৮৬ জন বিনিয়োগকারীর দাবির বিপরীতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ মোট ৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা পরিশোধ করবে।

একই আইনের আওতায় পর্যায়ক্রমে বাঙ্কো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কো. লিমিটেড এবং মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিনিয়োগকারীদের যাচাইকৃত দাবির অর্থও ফেরত দেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত অগ্রগতি এবং অর্থ ফেরত প্রদানের সময়সূচি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের ডিএসইর পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এসএমএসের মাধ্যমে অবহিত করা হবে।

এসএ খান?

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে