×
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউসিবির রাইট শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ০৮:৫৯:২৪
ইউসিবির রাইট শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৭৭৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪৯০ টাকা সংগ্রহ করছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। এ লক্ষ্যে গত ২৩ আগস্ট রাইট শেয়ারের সাবস্ক্রিপশন শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির রাইট শেয়ারের সাবস্ক্রিপশন শেষ হচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ইউসিবি বিদ্যমান দুটি শেয়ারের বিপরীতে একটি করে রাইট শেয়ার ইস্যু করছে। এ প্রক্রিয়ায় ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের মোট ৭৭ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার ৯৪৯টি শেয়ার ইস্যু করা হবে। রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। এরই মধ্যে এ রাইট ইস্যুর জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেয়েছে ইউসিবি। রাইট শেয়ারের রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছিল গত ৪ আগস্ট।

এদিকে ইউসিবির সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ মাইনাস’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-টু’। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল) এ ঋণমান নির্ধারণ করেছে।

ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে ইউসিবির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৮৪ পয়সায়।

২০২৫ অর্থ বছরে ইউসিবির বোর্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেনি। ওই বছরে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ১৫ পয়সা, যা আগের অর্থ বছরে ছিল ৫ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৫ টাকা ৭১ পয়সায়।

এর আগের ২০২৪ অর্থ বছরেও বিনিয়োগকারীদের কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি ইউসিবি। ওই বছর ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ৫ পয়সা, যেখানে আগের বছর পুনর্মূল্যায়িত হিসাবে তা ছিল ১ টাকা ৪৫ পয়সা। ২০২৪ সালের শেষ দিন শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস ছিল ২৬ টাকা ৪২ পয়সা।

তবে ২০২৩ অর্থ বছরে ইউসিবির বোর্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে ৫ শতাংশ ছিল ক্যাশ এবং ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড। ওই বছর ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ৫২ পয়সা এবং এনএভিপিএস ছিল ২৮ টাকা ৮১ পয়সা।

২০২২ অর্থ বছরেও ব্যাংকটি মোট ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেয়। এর মধ্যে ৫ শতাংশ ক্যাশ ও ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ছিল। ওই বছর ইউসিবির ইপিএস দাঁড়ায় ২ টাকা ৩৫ পয়সা এবং এনএভিপিএস ছিল ২৮ টাকা ৫৭ পয়সা। এছাড়া ২০২১ অর্থ বছরে ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড, ২০২০ অর্থ বছরে ৫ শতাংশ ক্যাশ ও ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড এবং ২০১৯ অর্থ বছরেও মোট ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল ব্যাংকটি।

১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইউসিবির অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার ৩২৫ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ব্যাংকটির রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ২৯০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২৩২ কোটি ৫৫ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪৭টি।

শেয়ার মালিকানার হিসাবে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ শেয়ার। সরকারের কাছে রয়েছে দশমিক ৮১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৪৬ শতাংশ। বাকি ৫২ দশমিক ০৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে