×
ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘খোকন মামুর এই অবস্থা হতো না’

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৫:১২:৩৩
‘খোকন মামুর এই অবস্থা হতো না’

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেকচির টাকা গণনার সময় ‘খোকন মামু’কে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মাজারের দানবাক্স ও ডেকচিগুলোর তালা খুলে চতুর্থবারের মতো টাকা গণনা শুরু হয়। এ সময় প্রায় চার বস্তা টাকা পাওয়া যায়। তবে গণনা শেষে মোট কত টাকা পাওয়া গেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানানো হয়নি।

শনিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্স ও ডেকচিগুলোর তালা খোলা হয়। টাকা গণনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসন, সিলেট সিটি করপোরেশন, মাজার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে অর্থ গণনার কার্যক্রম চলছে।

এবার টাকা গণনার সময় ডেকচির ভেতর থেকে ‘খোকন মামু’র জন্য লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটটিতে লেখকের নাম বা ঠিকানা উল্লেখ নেই। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে খোকন মামুর এই অবস্থা হতো না।’ এরপর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের ‘অন্তরের মায়ার মানুষ’ হিসেবে খোকন মামুর কথা লেখা হয়েছে। চিরকুটে একটি হৃদয়ের ছবিও আঁকা রয়েছে এবং সেখানে ‘ইউ’-এর সঙ্গে ‘মামুজি’ শব্দটি লেখা হয়েছে।

চিরকুটটি পাওয়ার পর বিষয়টি মাজারে উপস্থিতদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। তবে সেখানে ‘খোকন মামু’ নামে যাকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছে, তাঁর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে চিরকুটটি কে বা কারা সেখানে রেখেছেন, সে বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, সিলেট সিটি করপোরেশন এবং মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা টাকা গণনা কার্যক্রমে উপস্থিত রয়েছেন। গণনার সময় গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদেরও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

মাজার পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের হিসাব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দানবাক্স খোলার আগে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয় এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতেই অর্থ গণনা করা হচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ১৫ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো মাজারের দানবাক্স ও মানতের বাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ, ১৬ ভরি ২ আনা রুপা এবং অন্যান্য সামগ্রীও পাওয়া হয়েছিল।

এর আগে ১১ জুলাই দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। ওই সময়ও বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ, স্বর্ণসদৃশ বস্তু ও রুপার বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়। আর ২২ জুন দানবাক্স খোলার পর পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

তিন দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। এর বাইরে প্রতিবারই বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া গেছে। এবার প্রায় এক মাস চার দিন পর চতুর্থবারের মতো দানবাক্স ও ডেকচিগুলোর তালা খোলা হয়েছে।

সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানিয়েছেন, আগের মতো একই পদ্ধতিতে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে টাকা গণনা করা হচ্ছে। গণনা শেষে পাওয়া অর্থ জেলা প্রশাসকের অ্যাকাউন্টে জমা হবে। অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হবে, তা নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে মাজারে পাওয়া ‘খোকন মামু’র চিরকুটটি ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা আলোচনা তৈরি হলেও এর লেখক, উদ্দেশ্য এবং ‘খোকন মামু’র পরিচয় সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। টাকা গণনা শেষ হলে এবার মোট কত অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া গেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে