×
ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষের চোখ এত নিখুঁত, কোরআনের মিলল গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১১:৫৭:১২
মানুষের চোখ এত নিখুঁত, কোরআনের মিলল গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষের চোখ শরীরের অন্যতম জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। অতি ক্ষুদ্র এই অঙ্গের মাধ্যমেই মানুষ আলো, আকৃতি, দূরত্ব ও রঙের পার্থক্য বুঝতে পারে। চোখের গঠন ও কার্যপ্রণালি নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা যেমন মানবদেহের জটিলতা তুলে ধরে, তেমনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও দৃষ্টিশক্তিকে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চোখের যত্ন এবং এর যথাযথ ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে তৈরি একটি আলোচনায় মানবচোখের এই বিস্ময়কর দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

মানুষের চোখের সক্ষমতাকে আধুনিক ক্যামেরার সঙ্গে তুলনা করে ‘৫৭৬ মেগাপিক্সেল’ ক্যামেরার উপমা ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি চোখের রেটিনায় থাকা প্রায় ১২ কোটি রড কোষ এবং প্রায় ৬০ লাখ কোণ কোষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রড কোষ কম আলোতে দেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আর কোণ কোষ আলো ও রঙের সূক্ষ্ম পার্থক্য শনাক্ত করতে সাহায্য করে। তবে মানুষের চোখকে সরাসরি নির্দিষ্ট সংখ্যক মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা হিসেবে পরিমাপ করা বৈজ্ঞানিকভাবে সরলীকৃত একটি তুলনা।

সুরমা ব্যবহারের ধর্মীয় গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ‘ইসমিদ’ সুরমার কথা উল্লেখ করে এটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হাদিসের সূত্র উল্লেখ করে দৃষ্টিশক্তি ও চোখের যত্নের সঙ্গে সুরমার সম্পর্ক তুলে ধরা হলেও, সুরমা চোখের ছানি সারায় বা নিশ্চিতভাবে দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়—এমন চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক দাবি আলাদা করে প্রমাণিত হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। চোখের কোনো রোগ বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

পবিত্র কোরআনেও মানুষের চোখের নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূরা আল-বালাদের ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি কি তাকে দুটি চোখ দিইনি?’ আয়াতটি মানুষের প্রতি আল্লাহর দেওয়া বিভিন্ন নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।এই আয়াতের সঙ্গে মানুষের চোখের জটিল গঠন ও দৃষ্টিশক্তির বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যের একটি সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

চোখ শুধু দেখার মাধ্যম নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, কাজ এবং পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা তৈরিতেও এর ভূমিকা রয়েছে। তাই চোখকে সুস্থ রাখা এবং দৃষ্টিশক্তির সঠিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনায় পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নূরের ৩০ ও ৩১ নম্বর আয়াতের প্রসঙ্গ এনে দৃষ্টিকে সংযত রাখার নৈতিক ও ধর্মীয় নির্দেশনার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহর দেওয়া চোখের নেয়ামত যেমন যত্নের দাবি রাখে, তেমনি এর ব্যবহারেও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।

মানুষের চোখের গঠন ও কার্যকারিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং কোরআনের নৈতিক শিক্ষা—দুই দিক থেকেই বিষয়টি দেখলে চোখের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। একদিকে রেটিনার অসংখ্য সংবেদনশীল কোষ, আলো ও রঙ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের সঙ্গে চোখের সমন্বয় মানবদেহের জটিলতা তুলে ধরে; অন্যদিকে ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে এই নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ ও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করে।

চোখে ছানি, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, চোখে ব্যথা বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে শুধু ঘরোয়া বা ধর্মীয় কোনো উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ চোখের রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসাও ভিন্ন হতে পারে। স্রষ্টার দেওয়া দৃষ্টিশক্তির যত্ন নেওয়া এবং একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার মাধ্যমে চোখের সুস্থতা নিশ্চিত করাই হতে পারে এই আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে