×
ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভেতরে নারী বাইরে নারী, মাঝখানে ‘ওসি’ মাহবুব

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ১৫:৩৩:০১
ভেতরে নারী বাইরে নারী, মাঝখানে ‘ওসি’ মাহবুব

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটে এক নারীসহ সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থানকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে ওই কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয়ে এক নারী সেখানে গিয়ে দীর্ঘ সময় দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। এরপর পুলিশ ওই কর্মকর্তা ও নারীকে থানায় নিয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে নগরীর চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফ্ল্যাট থেকে থানায় নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হওয়ার পর তাঁকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখান থেকে কোনো ছুটি বা অনুমতি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে এসেছিলেন।

নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের পালিত মেয়ের ভাড়া নেওয়া বলে জানা গেছে। ওই মেয়ে ও তাঁর স্বামী সেখানে বসবাস করেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফ্ল্যাটটিতে মাহবুব আলমের সঙ্গে সানজিদা মৌ নামের এক নারী অবস্থান করছিলেন। সানজিদা মৌ মাহবুব আলমকে নিজের স্বামী বলে দাবি করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। তাঁর বাড়ি নওগাঁ। তিনি নিজেকে নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দেন। আন্নির দাবি, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাঁকে বিয়ে করেন। পরে তাঁর স্বামীর সঙ্গে একাধিক নারীর সম্পর্কের বিষয় জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

আন্নি আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটে এসেছেন এবং সেখানে সানজিদা মৌও রয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও দরজা না খোলায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। এরপর তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। এরপর মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। আন্নির দাবি, পুলিশ একাধিকবার ফোন করে দরজা খুলতে বললেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। দরজা খোলার পর মাহবুব আলম সানজিদাকে তাঁর স্ত্রী বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আন্নি আক্তারকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন এবং সানজিদা তাঁর স্ত্রী। তিনি পুলিশের কাছে আন্নিকে তালাক দেওয়ার কাগজ দিয়েছেন বলেও জানান। তবে সানজিদার সঙ্গে তাঁর বিয়ের কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি। পুলিশও জানিয়েছে, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। তবে আন্নি দাবি করেছেন, তিনি ওই তালাকের কোনো কাগজ পাননি।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্নি আক্তার। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানার পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়। আন্নি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে আইনগতভাবে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা তখনও চূড়ান্ত হয়নি।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানান, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং তিনি কাউকে না জানিয়েই রাজশাহীতে গেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও একটি অপরাধ। মাহবুব আলম বর্তমানে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত রয়েছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং বিভাগীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে