×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক লাইনে ভেঙে গেল বড় ন্যারেটিভ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৭:৫৩:০১
এক লাইনে ভেঙে গেল বড় ন্যারেটিভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে সম্ভাব্য নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ইরানের অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত হোসেন জালিলে রহিমি জাহানালাদি বলেছেন, বাংলাদেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ‘মক্কা প্যাক্টে’ যুক্ত হলে ইরানের উদ্বেগের কারণ নেই এবং তেহরান এটিকে হুমকি হিসেবে দেখছে না।

এতদিন ‘মক্কা প্যাক্ট’কে ঘিরে এমন একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে এটি মূলত সুন্নি দেশগুলোর একটি কাঠামো এবং বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে ইরানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে সেই আশঙ্কার বিপরীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ইরানের এমন অবস্থান বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক পরিসর বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। কারণ, বাংলাদেশ যদি একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা বা কৌশলগত সহযোগিতায় যুক্ত হয়, তাহলে একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করার সুযোগ থাকতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনীতিকে শুধু শিয়া-সুন্নি বিভাজনের মাধ্যমে দেখলে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না। বরং অর্থনৈতিক স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় এখন দেশগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে বলে এতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘটনাকেও এই পরিবর্তিত বাস্তবতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি নির্ধারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে । কোনো নির্দিষ্ট পরাশক্তির চাপ বা আশঙ্কার পরিবর্তে সম্ভাব্য প্রতিটি সহযোগিতার অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে ‘চেকমেট’ বা কোনো পক্ষের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার মতো রাজনৈতিক মূল্যায়নকে বিশ্লেষণের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত। একইভাবে ‘মক্কা প্যাক্টে’ বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ, এর কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি, সরকারি বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আপত্তি না থাকার বার্তা পাওয়া গেলে বাংলাদেশের সামনে একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ কীভাবে এই কূটনৈতিক পরিসর কাজে লাগাবে, সেটিই ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে সামনে আসছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে