×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্যানসার ভেবে ১১ বছর চিকিৎসা, পরে যা জানলেন ওই নারী

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১০:৫২:৫০
ক্যানসার ভেবে ১১ বছর চিকিৎসা, পরে যা জানলেন ওই নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাত্র ২১ বছর বয়সে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের বেকি জোন্স। এরপর তার মস্তিষ্কে প্রাণঘাতী গ্রেড-৪ গ্লিওব্লাস্টোমা টিউমার রয়েছে বলে জানানো হয়। চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসা না নিলে কয়েক মাসের মধ্যেই তার মৃত্যু হতে পারে। সেই আশঙ্কায় শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি ক্যানসারের চিকিৎসা।

২০১২ সাল থেকে বেকি টেমোজোলোমাইড (টিএমজেড) নামের কেমোথেরাপির ওষুধ নিতে শুরু করেন। তার দাবি, চিকিৎসক তাকে বলেছিলেন, জীবনের বাকি সময়ই এই ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। অথচ সাধারণ চিকিৎসা নির্দেশিকায় এ ধরনের কেমোথেরাপি সাধারণত সীমিত সংখ্যক সাইকেলে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বেকির ভাষ্য, চিকিৎসার সময় একাধিক স্ক্যানে তার মস্তিষ্কে টিউমারের স্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুললেও তাকে বলা হয়েছিল, টিউমার স্ক্যানে সবসময় দেখা নাও যেতে পারে। এভাবেই বছরের পর বছর তিনি কেমোথেরাপি নিতে থাকেন।

দীর্ঘ সময় কেমোথেরাপি নেওয়ার কারণে বেকির বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, মুখে ঘা ও অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। সংক্রমণের আশঙ্কায় তাকে সামাজিক অনুষ্ঠান ও পারিবারিক জমায়েতও এড়িয়ে চলতে হতো। চিকিৎসার কারণে তার কর্মজীবন বাধাগ্রস্ত হয়। এমনকি চিকিৎসকেরা তাকে সন্তান ধারণ করতে পারবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার দুটি সন্তান হয়।

২০২৪ সালে হঠাৎ তার কেমোথেরাপি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন তাকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অবসরে গেছেন। এরপর নতুন করে তার চিকিৎসার ইতিহাস ও রোগ নির্ণয় পর্যালোচনা করা শুরু হয়। ২০২৫ সালে স্বাধীন নিউরোসার্জন ও রেডিওলজিস্টদের বিশ্লেষণের পর বেকি জানতে পারেন, তার মূল রোগ নির্ণয়ই ভুল ছিল।

বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনায় বলা হয়, বেকির মস্তিষ্কে ক্যানসার ছিল না। তিনি ‘টিউমেফ্যাকটিভ ডিমাইলিনেশন’ নামের একটি প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এ ধরনের রোগ সাধারণত নিউরোলজিস্টরা চিকিৎসা করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে স্টেরয়েডভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়।

বেকির অভিযোগ, ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ১১ বছর অপ্রয়োজনীয় ক্যানসার চিকিৎসার মধ্যে কেটে গেছে। তার দাবি, তাকে বারবার বলা হয়েছিল কেমোথেরাপি না নিলে তিনি মারা যেতে পারেন।

এ ঘটনায় শুধু বেকি নন, আরও ৪০ জনের বেশি রোগী ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার (ইউএইচডব্লিউ) এনএইচএস ট্রাস্টের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘ সময় বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে তাদের ক্যানসারের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের প্রাথমিক পর্যালোচনায় ওই হাসপাতালে কিছু রোগীকে দীর্ঘ সময় টিএমজেড দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। পর্যালোচনা করা ২০টি মামলার মধ্যে ১৫টিকে সামগ্রিকভাবে ‘অসন্তোষজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রোগীদের টিএমজেড ব্যবহারের ঝুঁকি যথাযথভাবে বোঝানো ও নথিভুক্ত করা, চিকিৎসকদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল পর্যালোচনার অভাবের কথাও উঠে এসেছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যক্তিগত রোগীর বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা জানিয়েছে, টিএমজেড প্রেসক্রিপশন ও ব্যবহারের ওপর আরও শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

বেকির মতে, ঘটনাটি শুধু একজন চিকিৎসকের ভুলের বিষয় নয়। বরং এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি ভুল রোগ নির্ণয় কীভাবে নজরদারির বাইরে থাকল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে