×
ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাঁধন ইস্যুতে ২৪ ঘণ্টা পর আনিসুল হকের 'ন্যাকামি'

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ১০:৩০:০২
বাঁধন ইস্যুতে ২৪ ঘণ্টা পর আনিসুল হকের 'ন্যাকামি'

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। ঘটনাটি নিয়ে পরে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কথাসাহিত্যিক ও প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক।

নিজের পোস্টে বাঁধন ও অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর প্রতি সহমর্মিতা জানান আনিসুল হক। পাশাপাশি তিনি এমন একটি সহনশীল সমাজের প্রত্যাশার কথা বলেন, যেখানে মতপার্থক্য থাকলেও মানুষ পরস্পরের প্রতি সম্মান দেখাবে।

তবে তার এই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমত দেখা গেছে। সমালোচকদের একটি অংশের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে না এনে আনিসুল হক তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাঁধনের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে দেওয়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভাষা ও বক্তব্য নিয়েই এখন শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। নেটিজেনদের একাংশ তার এই প্রতিক্রিয়াকে ‘নেকামি’ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, সরাসরি প্রতিবাদ না করে কেন এতটা ‘ভারসাম্য’ দেখানোর চেষ্টা করা হলো।

আনিসুল হক স্ট্যাটাসের সাথে চঞ্চল চৌধুরীর একটি পুরনো ছবি জুড়ে দিয়েছেন, যা নিয়ে ইন্টারনেটে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। নেটজেনদের মতে, চঞ্চল চৌধুরী তো ঘটনার সময় দেশে ছিলেন, তাহলে বিদেশে বাধনকে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় তাকে কেন টেনে আনা হলো? অনেকেই মনে করছেন, এই ছবিটি ব্যবহার করে আনিসুল হক আসলে হামলার বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছেন। তারা মনে করছেন, নিজের অবস্থান সুরক্ষিত রাখা ও সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, আনিসুল হকের পোস্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্পীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং সহনশীল সামাজিক পরিবেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। ফলে তার বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি বিতর্কটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যার ফল।

ভেনিসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে শিল্পী ও সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। হামলার অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটনাটি একই সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—কোনো শিল্পী রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে পড়লে তার প্রতি সংহতি প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় কতটা বিবেচনায় নেওয়া উচিত? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রশ্নেই এখন চলছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে