×
ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভ্যাট নিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর এনবিআরের নতুন পরিকল্পনা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ০৯:৪৪:১০
ভ্যাট নিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর এনবিআরের নতুন পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার আওতায় আনতে নতুন পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ছোট দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট হারে মাসিক ভ্যাট দিতে হতে পারে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসে ৫০০ টাকা, উপজেলা পর্যায়ে ১ হাজার টাকা এবং জেলা সদর ও জেলা পৌর শহর এলাকায় ২ হাজার টাকা হারে ভ্যাট নেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এসব হার এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ভ্যাটের আওতা ও হার চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের তিন থেকে পাঁচ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এই নির্ধারিত ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলার বাজার, বিপণিবিতান ও দোকানের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কোথায় কতটি দোকান রয়েছে, দোকানের ধরন কী এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান কোথায়—এসব তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিসংখ্যানও সংগ্রহ করা হচ্ছে।পরবর্তী ধাপে ইউনিয়ন পর্যায় থেকেও একই ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

এনবিআরের সংগৃহীত একটি তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নুর নাহার প্লাজায় ৫২টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে চারটি দোকানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) রয়েছে।

এ ছাড়া রংপুর সিটির বেতপট্টি বাজারে দোকানের সংখ্যা ১২১টি এবং কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী বাজারে রয়েছে ৫০টি দোকান।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের পর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে। এরপর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত ভ্যাটের আওতায় আনা হবে, তা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

এনবিআর সূত্র বলছে, প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভ্যাট দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এ কাজে আলাদা একটি অ্যাপ চালুর কথাও ভাবছে সংস্থাটি।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, উপজেলা পর্যায়ের বাজার, বিপণিবিতান ও দোকানের তালিকা ইতোমধ্যে ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে আসতে শুরু করেছে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পর ভ্যাটের নির্ধারিত হার চূড়ান্ত করা হবে।

প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের উদ্যোগ নতুন হলেও এর সঙ্গে প্রায় এক দশক আগে চালু থাকা প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থার মিল রয়েছে।

ওই সময়ে শহরাঞ্চলের ছোট ব্যবসায়ীদের লেনদেনের পরিমাণ বিবেচনা না করে নির্দিষ্ট হারে মাসিক ভ্যাট দিতে হতো। ২০১৯ সালে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার পর প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

এবার এনবিআরের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অনেকটা একই ধরনের কাঠামোয় ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যায়ের ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্যাট দিতে হতে পারে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রি বা লেনদেন ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য।

অন্যদিকে, ৫০ লাখ টাকার নিচে বার্ষিক বিক্রি বা লেনদেন করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়।

এই পরিস্থিতিতে ভ্যাটের আওতা বাড়াতে ন্যূনতম নির্ধারিত ভ্যাট চালুর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এর মাধ্যমে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট খাত থেকে ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।

এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নির্ধারিত হারে ভ্যাট আরোপের বিষয়টি এখনো পরিকল্পনা ও তথ্য সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই জানা যাবে কোন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কত হারে ভ্যাট দিতে হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে