×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেষ আধাঘণ্টায় বিপর্যস্ত শেয়ারবাজার, তিন মাসের তলানিতে ডিএসই

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৬:২৪:৩১
শেষ আধাঘণ্টায় বিপর্যস্ত শেয়ারবাজার, তিন মাসের তলানিতে ডিএসই

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। আগের কার্যদিবসের পতনের রেশ ধরে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক কমেছে। এর ফলে প্রায় তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে ডিএসইর প্রধান সূচক। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

বছরের শুরুতে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও গত এক মাস ধরে বাজারে ধারাবাহিক দরপতন চলছে। এতে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পরিমাণও বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দিনের প্রথম তিন ঘণ্টা সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে শেষ আধাঘণ্টায় ব্যাপক বিক্রির চাপে বাজারের চিত্র পাল্টে যায় এবং সূচক পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়।

দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১০৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৩০টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে এবং ৫৪টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।

ভালো মানের বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি ডিভিডেন্ড প্রদানকারী ৬৭টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। এ শ্রেণির ১০৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে এবং ২০টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬৫টির দাম কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ডিভিডেন্ড না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ২৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৫৮টির কমেছে এবং ৩১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অন্যদিকে, ৩২টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে এবং মাত্র ১টির দাম কমেছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২২ পয়েন্ট হারিয়েছে। দিন শেষে সূচকটি ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। এটি চলতি বছরের ৮ জুনের পর ডিএসইএক্সের সর্বনিম্ন অবস্থান।

অন্য সূচকগুলোর মধ্যেও পতন দেখা গেছে। ৩০টি ভালো মানের কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সূচক কমলেও এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার মোট ৫৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

লেনদেনের সর্বোচ্চ অবদান ছিল এনভয় টেক্সটাইলের। কোম্পানিটির ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের দিক থেকে পরের অবস্থানে রয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, মালেক স্পিনিং, নিটল ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স এবং সাউথইস্ট ব্যাংক।

এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বৃহস্পতিবার লেনদেনে অংশ নেয় ১৮২টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৬৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৯০টির কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

দরপতনের প্রভাবে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১ পয়েন্ট কমেছে। পাশাপাশি সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দিন শেষে সেখানে ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে