×
ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় ডিএসই-ডিবিএর জরুরি বৈঠক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ২৩:১৯:০১
বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় ডিএসই-ডিবিএর জরুরি বৈঠক

টানা দরপতন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এবং শেয়ার বিক্রির বাড়তি চাপের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ডিএসইর বোর্ডরুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনার পাশাপাশি অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর করণীয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

আড়াই মাসের সর্বনিম্ন ডিএসইএক্স

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বড় ধরনের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। এদিন ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০৩ পয়েন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে এটিই সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান।

রোববার ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি কোম্পানির মধ্যে ৩৪৮টির শেয়ারদর কমেছে। বিপরীতে দর বেড়েছে মাত্র ২০টি কোম্পানির।

দরপতনের পাশাপাশি বাজারে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কম।

একই দিনে ডিএসইর বাজারমূলধন প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা কমে ৬ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। সূচকের পতন, লেনদেন কমে যাওয়া এবং বাজারমূলধনের বড় ধরনের সংকোচন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা

বাজারের সাম্প্রতিক দুর্বলতার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয় ও মুনাফার ওপর পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সংকট। এসব বিষয় বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান দুর্বল করে বাজারে বিক্রির চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইর চিঠি ও তদন্তে বড় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে তথ্য চেয়ে ডিএসই বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসকে একাধিক চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসে তদন্তের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, এসব ঘটনায় বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, কোনো কোম্পানির লেনদেনের বিষয়ে তথ্য চেয়ে ডিএসই চিঠি দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বড় বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ দ্রুত শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পাশাপাশি সামগ্রিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তাদের মতে, একদিকে শেয়ার বিক্রির চাপ, অন্যদিকে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গাটি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আস্থা ফেরাতে বৈঠকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা

এমন পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারের বড় পতন ও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক কমাতে ডিএসই ও ডিবিএর মঙ্গলবারের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, কোম্পানিগুলোর আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে তদন্তসংক্রান্ত চিঠির কারণে বড় বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়েছে।

জরুরি বৈঠকে বাজারের বর্তমান অস্থিরতা মোকাবিলা, স্বাভাবিক লেনদেন পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট কাটাতে সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধানেও সংশোধন

তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের আরেকটি অংশের মতে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার এবং পুনর্গঠিত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রত্যাশার প্রভাবে বাজার দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশিত পরিস্থিতির সঙ্গে বাস্তবতার পুরোপুরি সামঞ্জস্য না থাকায় বাজারে বর্তমানে একধরনের সংশোধন চলছে বলে মনে করছেন তারা।

আগস্টেও বড় পতন

এর আগে গত আগস্ট মাসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৯৭ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ৫ শতাংশ কমেছিল। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ৩০ শতাংশ কমে ৮৭৬ কোটি টাকায় নেমে আসে।

এ অবস্থায় ডিএসই ও ডিবিএর জরুরি বৈঠক থেকে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক কমানো, বাজারে অস্বাভাবিক বিক্রির চাপের কারণ চিহ্নিত করা এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর দায়িত্ব ও করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে বৈঠক থেকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে