×
ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেয়ারবাজারে ডেরিভেটিভ চালুর প্রস্তুতি, অংশীজনদের সঙ্গে ডিএসইর পরামর্শ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৮:৪৮:৩৭
শেয়ারবাজারে ডেরিভেটিভ চালুর প্রস্তুতি, অংশীজনদের সঙ্গে ডিএসইর পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারের গভীরতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাজারের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সচেতনতা ও পরামর্শমূলক কর্মসূচি আয়োজন করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই)।

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. নাফিজ আল তারেক, সিএফএ, এফআরএম, নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং শেয়ারবাজারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।

প্রস্তুতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেই ডেরিভেটিভ চালু

অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনার মো. নাফিজ আল তারেক বলেন, দেশের শেয়ারবাজারে ডেরিভেটিভ চালুর বিষয়ে কমিশনের ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে। তবে এ ধরনের পণ্য চালুর আগে বাজারের প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ডেরিভেটিভ একদিকে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুবিধা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া চালু করা হলে এটি বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

নাফিজ আল তারেক জানান, ২০২৮ সালের মধ্যে ডেরিভেটিভ চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি (সিসিপি) ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিসিপি কার্যকর না হলে ডেরিভেটিভ কার্যক্রম চালু করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে ব্রোকার, ট্রেডারসহ বাজারের অন্যান্য অংশীজনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফিউচারস মার্কেট বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও হেজিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বাজারের তারল্য ও অস্থিরতার ঝুঁকি মোকাবিলায় ডেরিভেটিভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিএসইসি কমিশনার আরও বলেন, ডেরিভেটিভ চালুর ক্ষেত্রে কমিশন, এক্সচেঞ্জ, সিসিবিএল এবং বাজারের অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিধিমালা, অবকাঠামো ও সক্ষমতা নিশ্চিত করে ডেরিভেটিভ মার্কেট চালুর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।

অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এগোবে ডিএসই

এর আগে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে নতুন আর্থিক পণ্য চালুর উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিএসইসির সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ডিএসই ও বিএসইসির সমন্বয়ে ডেরিভেটিভ চালুর জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ধাপে ধাপে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে।

নুজহাত আনোয়ার আরও জানান, ভবিষ্যতে ডেরিভেটিভ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হবে।

প্রয়োজন শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, আর্থিক ডেরিভেটিভসের মধ্যে বিশেষ করে ইনডেক্স ডেরিভেটিভ ক্যাশ সেটেলমেন্টের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে সহজে চালু করা সম্ভব। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত, ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এ উদ্দেশ্যে বিদ্যমান এক্সচেঞ্জ ডেরিভেটিভস রুলসকে যুগোপযোগী করে প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করা হবে। একই সঙ্গে ডেরিভেটিভ ট্রেডিংয়ের উপযোগী প্ল্যাটফর্ম, সিসিপি, রিয়েল-টাইম মার্জিনিং, পজিশন মনিটরিং এবং মার্ক-টু-মার্কেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

আবুল কালাম জানান, নির্ধারিত অ্যাকশন প্ল্যান ও সময়সীমা অনুযায়ী প্রস্তুতি কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। পুঁজিবাজারের গভীরতা ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ডেরিভেটিভ মার্কেট চালুর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

জানুয়ারি ২০২৮-এ ডেরিভেটিভ চালুর পরিকল্পনা

ডিএসইর মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের বলেন, দেশের শেয়ারবাজারে আধুনিক আর্থিক পণ্য চালু এবং বাজারের গভীরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিএসই ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডেরিভেটিভ পণ্য চালুর পরিকল্পনা করছে। এ পরিকল্পনা বিএসইসি অনুমোদন করেছে।

তিনি বলেন, ডেরিভেটিভ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং বাজারের অংশীজনদের প্রস্তুত করার লক্ষ্যে ডিএসই একটি কৌশল ও অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে বিএসইসির কাছে জমা দিয়েছে। কমিশনের সহযোগিতায় বর্তমানে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের জানান, পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ডিএসইর নিজস্ব সূচকভিত্তিক স্টক ইনডেক্স ফিউচারস, পরবর্তী ধাপে সিঙ্গেল স্টক ডেলিভারেবল ফিউচারস এবং দীর্ঘমেয়াদে অপশনস মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মসূচিতে ডেরিভেটিভস পণ্য সম্পর্কে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এসব পণ্য চালুর সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে