ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনারগাঁয়ে চাঁদার দাবিতে মেঘনা গ্রুপের গাড়িতে হামলা, লুটপাট

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ২০:৩৮:২৩
সোনারগাঁয়ে চাঁদার দাবিতে মেঘনা গ্রুপের গাড়িতে হামলা, লুটপাট

সোনারগাঁ( নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদাবাজদের অব্যাহত অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মেঘনা গ্রুপের ঠিকাদাররা। অভিযোগ উঠেছে, এই এলাকায় মেঘনা গ্রুপের যেকোনো কাজ করতে গেলেই নির্দিষ্ট একটি চক্রকে চাঁদা দিতে হয়, আর সম্প্রতি চাঁদা না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির সিমেন্টবাহী একটি গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ চক্র এই এলাকায় সক্রিয়। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০ বস্তা ফ্রেশ সিমেন্ট নিয়ে ঢাকা মেট্রো-উ-১২-৩১১৫ নম্বরের একটি পিকআপ মেঘনা ইকোনমিক জোনের একটি নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পিকআপটি জৈনপুর এলাকায় পৌঁছালে চাঁদার দাবিতে গাড়িটি আটকে দেওয়া হয়।

চাঁদা না পাওয়ার পর সুমনের নেতৃত্বে শুভ, রাব্বী, আল আমিন, তানভীর, সজিব, সবুজ, হোসেন মোল্লা ও মাহফুজসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দা, চাপাতি, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে গাড়িটি ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে চালকের কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা ও সিমেন্ট ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসময় চালকের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা ঠিকাদারি প্রতিনিধি আবু সাইদ ও মো. সোপানের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার লিমিটেডের এজিএম (প্রশাসন) মো. আসাদুল ইসলাম বাদী হয়ে সেদিন রাতেই সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, মামলার পরপরই আসামিরা আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও প্রকাশ্যে কোম্পানির লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি মেঘনা গ্রুপের যেকোনো গাড়ি জৈনপুর এলাকায় প্রবেশ করলে প্রতি গাড়িতে ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সুমন দীর্ঘদিন ধরেই একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত, যার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে থাকে। এছাড়া তার বাড়িতে মাদকের আসর বসিয়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উল্লেখযোগ্য যে, ২০০৭ সালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানা এলাকা থেকে ফেনসিডিল পাচারের সময় সুমনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল, যে মামলায় তাকে দীর্ঘদিন জেল হাজতেও থাকতে হয়েছিল।

মেঘনা গ্রুপের ঠিকাদারদের ভাষ্য, সরকার যখন কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে শিল্পপতিদের উৎসাহিত করছে, তখন এই এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসই যেন শিল্পায়নের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, মামলার আসামিরা স্থানীয় থানার পুলিশ পরিদর্শকসহ একাধিক উপ-পরিদর্শক ও ফোর্স সদস্যদেরও হুমকি দিচ্ছে। হামলায় আহতদের জখমের ধরন গুরুতর বলে চিকিৎসকের সনদেও উল্লেখ রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিনিধি আবু সাইদ জানান, মাদকাসক্ত ও চাঁদাবাজ সুমনের নেতৃত্বাধীন চক্রকে ইতিমধ্যে কয়েক দফায় চাঁদা দেওয়া সত্ত্বেও নতুন করে চাঁদার দাবিতে গাড়ি আটকে লুটপাট চালানো হয়েছে। তার আশঙ্কা, অব্যাহত হুমকির মুখে মেঘনা গ্রুপের নির্মাণাধীন সাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন আরেক প্রতিনিধি মো. সোপানও, তার মতে, চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার না করা হলে নির্মাণকাজ সঠিকভাবে চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে, আর শ্রমিকরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এবং জামিনে বেরিয়ে কেউ হুমকি-ধামকি দেওয়ার চেষ্টা করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহতাব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে