ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে নিয়ে যাওয়ার পর নতুন মোড়

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৫:৩০:৫১
বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে নিয়ে যাওয়ার পর নতুন মোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের তামান্না আক্তার। ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন, যেভাবেই সেখানে গিয়ে থাকেন না কেন, এখন সেখানেই থাকবেন। তবে তিনি স্বেচ্ছায় সেখানে গেছেন, নাকি তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তামান্না বলেন, ‘আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হউক, নিজের ইচ্ছায় হউক, যেমনেই হউক। আইছিতো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।’

ভিডিওতে তামান্নার দুই পাশে ছয়জন নারী এবং সামনে একজন পুরুষকে বসা অবস্থায় দেখা যায়। একটি কক্ষের দরজার পাশে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে আতিকুর রহমান মিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে তিনি ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর ও বরযাত্রীরা নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

পথে হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন আতিকুর রহমান মিয়াদ—এমন দাবি করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালিয়ে তামান্নাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার পর তামান্না ও আতিকুর রহমান মিয়াদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর আতিকুর রহমান মিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’ লিখে একটি পোস্ট দেন। তবে ওই পোস্টের মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এদিকে তামান্নার নতুন ভিডিও বার্তার পর পুরো ঘটনাকে ঘিরে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি যদি স্বেচ্ছায় সেখানে গিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে গাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে—এ প্রশ্ন উঠছে। আবার যদি তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ভিডিওতে তার দেওয়া বক্তব্যের কারণও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। ছেলে বা মেয়েপক্ষের কেউ অভিযোগ করবে কি না, সেটিও এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে মামলা না হলেও পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধারে কাজ করছে।

ওসি বলেন, তামান্নাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলে ঘটনাটি আসলে কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তার বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।

তামান্নার অবস্থান ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় পুলিশি তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে। ভিডিও বার্তায় তামান্নার বক্তব্য নতুন তথ্য সামনে আনলেও তাকে কীভাবে সেখানে নেওয়া হয়েছিল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে