ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫০ টাকার নিচে মিলছে মাত্র দুই ধরনের সবজি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৭:৩৮:৫২
৫০ টাকার নিচে মিলছে মাত্র দুই ধরনের সবজি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম এখনো চড়া। টানা বৃষ্টি, জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাবে দামে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও স্বস্তি ফেরেনি ক্রেতাদের মধ্যে। মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে থাকা ২১ ধরনের সবজির মধ্যে পেঁপে ও বড় করলা—মাত্র এই দুই ধরনের সবজি ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজার, হাতিরপুল ও মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারে বিভিন্ন সবজির দাম যাচাই করে এ চিত্র পাওয়া যায়।

বাজারে পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা এবং বড় করলা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও লাউয়ের মতো কয়েকটি সবজির দাম ৫০ টাকার কাছাকাছি। চিচিঙ্গা ও ধুন্দল প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং লাউ আকারভেদে প্রতি পিস ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া, কাঁকরোল, পটল, শসা ও ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। বরবটির দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা এবং ছোট করলা বা উস্তা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কালো গোল বেগুনের দাম আরও বেশি—প্রতি কেজি ১০০ টাকা।

সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামের তালিকায় রয়েছে শিম, যা প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গাজর ও টমেটো ১২০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচু বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৬০ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের শাকের আঁটি ২০ থেকে ৫০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির মৌসুমে সাধারণত কচুর লতি, কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, পটল, ধুন্দলসহ কয়েকটি সবজির সরবরাহ বাড়ে। ফলে এ সময়ে এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক কম থাকার কথা। কিন্তু এবার উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় বাজারে প্রত্যাশিত দাম কমেনি।

আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজারের বিক্রেতা শাহজাহান জানান, কয়েকটি সবজির দাম সামান্য কমলেও বেশিরভাগ পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। তার দাবি, মুঠি কচু, চিচিঙ্গা ও ঢ্যাঁড়সের দাম কিছুটা কমেছে।

অন্য বিক্রেতা মিজান বলেন, চাষাবাদ কমে যাওয়া, ঝড়-বৃষ্টি এবং অন্যান্য কারণে সবজির দাম বাড়ছে। পাইকারি বাজারেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারেও দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

শুধু সবজি নয়, মাছ-মাংস ও ডিমের দামও এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা।

মাছের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। বাইন মাছ প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতল ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ট্যাংরার দাম কেজিতে প্রায় ৭০০ টাকা। আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের চড়া দামে চাপের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার নিয়মিত মনিটরিং ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। হাতিরপুল বাজারের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, মাছ-মাংসের দাম দীর্ঘদিন ধরেই বেশি; এর সঙ্গে মৌসুমি সবজির দামও বেশি থাকায় সংসারের ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে