ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিকশা থেকে প্রাইভেটকার—সড়ক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৭:৫২:৫৪
রিকশা থেকে প্রাইভেটকার—সড়ক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশে প্যাডেলচালিত রিকশা বন্ধ, ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রাইভেটকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, পরিবেশ সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে তা নোটিশদাতাকে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, দেশের ১ শতাংশেরও কম মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করলেও এসব যানবাহন সড়কের বড় অংশ দখল করে রাখে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির চাপ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি ভর্তুকির ওপর প্রভাব ফেলছে। যানবাহনের ধোঁয়া বায়ুদূষণ বাড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।

এ কারণে প্রাইভেটকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উচ্চহারে পরিবেশ কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে প্যাডেলচালিত রিকশাকে ‘আধুনিক দাসত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, চরম দারিদ্র্যের কারণে অনেক প্রান্তিক মানুষ বাধ্য হয়ে এ পেশায় যুক্ত হন, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদে জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্যাডেলচালিত রিকশা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে গতি নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর ব্রেকিং সিস্টেম ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এর জন্য বৈজ্ঞানিক ও পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, দেশে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যদি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা যায়, তাহলে তা জাতীয় সম্পদের সুষম ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

এ ছাড়া বেকারত্ব কমানো ও যানজট নিরসনে রাইড শেয়ারিং, রেন্ট-এ-কার এবং মিটারভিত্তিক গাড়ি সেবা উৎসাহিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নোটিশদাতার মতে, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় প্রাইভেটকারের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে গণপরিবহন ও নিরাপদ রিকশা ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে