ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

এই তিন উপাদানেই চুল হবে সিল্কি ও মজবুত

২০২৬ জুলাই ২১ ০৯:৪৪:১৩
এই তিন উপাদানেই চুল হবে সিল্কি ও মজবুত

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিয়মিত হেয়ার কালার, স্ট্রেইটনার, কার্লার কিংবা অতিরিক্ত তাপ ব্যবহারের ফলে অনেকের চুল ধীরে ধীরে শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সমস্যার অন্যতম কারণ চুলের প্রাকৃতিক কেরাটিনের ঘাটতি। কেরাটিন হলো এমন একটি প্রোটিন, যা চুলকে মজবুত, নরম ও উজ্জ্বল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনেকেই চুলের সৌন্দর্য ফেরাতে ব্যয়বহুল পার্লার ট্রিটমেন্টের ওপর নির্ভর করেন। তবে ঘরেই সহজলভ্য কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে কেরাটিনসমৃদ্ধ হেয়ার মাস্ক তৈরি করা সম্ভব। নিয়মিত ব্যবহার করলে এসব মাস্ক চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে, রুক্ষতা কমাতে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

ডিম ও টক দইয়ের মাস্ক

ডিমে থাকা প্রোটিন চুলের কেরাটিন গঠনে সহায়তা করে, আর টক দই মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি চুলকে নরম ও মসৃণ করতে সাহায্য করে।

ব্যবহারবিধি: একটি ডিমের সঙ্গে চার টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগান। ৩০ মিনিট পর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

ভাত ও নারিকেলের দুধের মাস্ক

বেঁচে যাওয়া ভাতও চুলের যত্নে কার্যকর হতে পারে। ভাতের পুষ্টিগুণ, নারিকেলের দুধের স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ডিমের প্রোটিন ক্ষতিগ্রস্ত চুলের যত্নে সহায়তা করে।

ব্যবহারবিধি: অল্প ভাতের সঙ্গে চার চা চামচ নারিকেলের দুধ, একটি ডিমের সাদা অংশ এবং এক চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলে লাগান। ৪০–৪৫ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কলা ও মধুর মাস্ক

শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের জন্য কলা, মধু ও অলিভ অয়েলের মিশ্রণ বেশ উপকারী। কলা চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, মধু চুলকে কোমল করে এবং অলিভ অয়েল চুলে বাড়তি পুষ্টি যোগায়।

ব্যবহারবিধি: একটি পাকা কলার সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

শুধু মাস্ক নয়, খাদ্যাভ্যাসেও গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা যথেষ্ট নয়। চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিন ডিম, মাছ, দুধ, ডাল, বাদাম ও বিভিন্ন বীজজাতীয় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং এড়িয়ে চলাও জরুরি।

তবে মনে রাখতে হবে, ঘরোয়া এসব মাস্ক একবার ব্যবহারেই অলৌকিক ফল পাওয়া যায় না। নিয়মিত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে চুলের কোমলতা, উজ্জ্বলতা ও প্রাণ ফিরে আসতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর



রে