ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

অতিরিক্ত ক্ষুধার পেছনে যে ভিটামিনের ঘাটতি দায়ী হতে পারে

২০২৬ জুলাই ১৭ ১২:৫৬:৫০
অতিরিক্ত ক্ষুধার পেছনে যে ভিটামিনের ঘাটতি দায়ী হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার ক্ষুধা লাগা বা বারবার কিছু খেতে ইচ্ছা করা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক মনে হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সমস্যা কখনো কখনো শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিষয়টিকে অনেক সময় ‘হিডেন হাঙ্গার’ (লুকানো ক্ষুধা)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ, শরীর পর্যাপ্ত ক্যালরি পেলেও প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টির অভাবে মস্তিষ্ক বারবার খাবারের সংকেত দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পেট ভরানোর জন্য খাবার খেলেই শরীর সুস্থ থাকে না। স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান।

ক্ষুধা ও তৃপ্তির অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে শরীরের বিভিন্ন হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে লেপটিন মস্তিষ্ককে জানায় যে শরীর পর্যাপ্ত খাবার পেয়েছে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি লেপটিনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরও তৃপ্তির অনুভূতি কমে গিয়ে বারবার ক্ষুধা লাগতে পারে।

ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি সরাসরি ক্ষুধা বাড়ায়—এমন শক্ত প্রমাণ সীমিত। তবে এর অভাবে অনেকের মিষ্টি, চকলেট বা বেশি কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে।

এ ছাড়া ম্যাগনেসিয়াম কম থাকলে ক্লান্তি, পেশিতে টান, অবসাদ ও মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স শরীরের কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিনকে শক্তিতে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে ভিটামিন বি১, বি৩, বি৬, ফোলেট (বি৯) ও বি১২-এর ঘাটতি হলে শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। অনেক সময় এই শক্তির ঘাটতিকে শরীর অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হিসেবে প্রকাশ করে।

শরীরে অক্সিজেন পরিবহনের জন্য আয়রন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়রনের ঘাটতিতে রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) হতে পারে, যার ফলে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়।

এ অবস্থায় শরীর দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য বেশি খাবারের সংকেত দিতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্ষুধা লাগা শুধু ভিটামিনের ঘাটতির কারণে হয় না। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হাইপারথাইরয়েডিজম (থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা) বা অন্যান্য বিপাকজনিত সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

তাই নিয়মিত এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেন—মাছ, মাংস ও ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডাল ও বাদাম, শাকসবজি ও ফলমূল এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম, ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম এবং ভিটামিন ডি-এর জন্য কিছু সময় সকালের রোদে থাকা উপকারী হতে পারে।

খাওয়ার পরও যদি নিয়মিত ক্ষুধা লাগে, বিষয়টিকে অবহেলা না করে এর কারণ খুঁজে বের করা উচিত। কারণ এটি কখনো কখনো শরীরের পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর



রে