ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

নিজেদের সময় করা আইনের মুখোমুখি আওয়ামী লীগ!

২০২৬ জুলাই ০৯ ১৬:৪১:৩৮
নিজেদের সময় করা আইনের মুখোমুখি আওয়ামী লীগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিদ্যমান আইনের অধীনে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ, নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল এবং সম্পদ জব্দের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক (কো-অর্ডিনেটর) আনসার উদ্দিন খান পাঠান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর করা আবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি জানান, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে তদন্ত শেষ হতে সময় লাগতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ সালে প্রণয়ন করা হয়। পরে ২০১৩ সালে আইনের ২ নম্বর ধারায় সংশোধন এনে ‘অরগানাইজেশন’ বা ‘সংগঠন’ শব্দটি যুক্ত করা হয়।

এর পাশাপাশি ২০২৫ সালে সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়, কোনো সংগঠন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন, সহায়তা, উসকানি, ষড়যন্ত্র বা মদদ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলে ট্রাইব্যুনাল সেই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করতে, নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল করতে এবং সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিতে পারবেন।আইনে ‘সংগঠন’ বলতে রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তে যদি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায় এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে আসে, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন আওয়ামী লীগ সরকারই প্রণয়ন করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে সংগঠনের বিচারের বিধানও সেই সরকারের সময়েই আইনে যুক্ত করা হয়।

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান আইনের আওতায় রাজনৈতিক দলের বিচার সম্ভব। তবে কোনো দলকে কারাদণ্ড দেওয়া না গেলেও আইন অনুযায়ী দল নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করা এবং সম্পত্তি জব্দের মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে সংগঠনের সম্পৃক্ততা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন। তিনি এ ধরনের বিচারের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও মন্তব্য করেছেন।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ গঠন হবে কি না এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দলটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে