ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

১৫ লাখ বিও হিসাব কমে যাওয়ার পেছনে যে কারণগুলো সামনে এলো

২০২৬ জুলাই ০৯ ১৫:৪৯:৫০
১৫ লাখ বিও হিসাব কমে যাওয়ার পেছনে যে কারণগুলো সামনে এলো

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা, মানসম্পন্ন কোম্পানির সংকট এবং ধারাবাহিক লোকসানের কারণে গত এক দশকে প্রায় ১৫ লাখ বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব কমেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন আইপিওর অভাব, দুর্বল করপোরেট সুশাসন এবং বিনিয়োগ সুরক্ষার ঘাটতিই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১ জুলাই দেশে বিও হিসাব ছিল ৩১ লাখ ৫৩ হাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৭৫ হাজারে। অর্থাৎ ১০ বছরে বিও হিসাব কমেছে ১৪ লাখ ৭৮ হাজার বা প্রায় ৪৭ শতাংশ।

বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও কম মানুষের বিও হিসাব রয়েছে। বিপরীতে, ভারতে জনসংখ্যার ৯ শতাংশের বেশি মানুষ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী উল্লেখযোগ্য লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে, নিয়মিত লভ্যাংশও দেয়নি অনেক প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে নতুন ও শক্তিশালী কোম্পানির আইপিও না আসায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ নতুন বিনিয়োগকারী গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বা তার বেশি লোকসান করেছেন। করপোরেট সুশাসনের দুর্বলতা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার ঘাটতি এবং কিছু ব্রোকারেজ হাউস ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেকেই বাজার ছেড়ে গেছেন।

তার ভাষ্য, গত দুই বছরে কোনো নতুন কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ না করায় অনেক বিনিয়োগকারী শুধু আইপিওর জন্য খোলা বিও হিসাবও বন্ধ করে দিয়েছেন।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে নারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বন্ধের হার তুলনামূলক বেশি।পুরুষ বিও হিসাব কমেছে ২২ লাখ ৯০ হাজার থেকে ১২ লাখ ৬৩ হাজারে।নারী বিও হিসাব কমেছে ৮ লাখ ৫২ হাজার থেকে ৩ লাখ ৯৪ হাজারে।বিদেশি বা প্রবাসী বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব ১ লাখ ৫৭ হাজার থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৪৩ হাজারে।

এছাড়া যৌথ বিও হিসাব বন্ধের হার একক হিসাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট বিও হিসাব ১৬ লাখ ৪১ হাজার থেকে বেড়ে ১৬ লাখ ৭৫ হাজারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ নতুন যুক্ত হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার হিসাব।

তবে একই সময়ে শেয়ারশূন্য বা নিষ্ক্রিয় বিও হিসাবও ৩ লাখ ৬৮ হাজার থেকে বেড়ে ৩ লাখ ৯৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব বলেন, বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সুযোগে অনেকে মুনাফা তুলে বেরিয়ে গেছেন। পাশাপাশি ব্রোকারেজ পরিবর্তন এবং রক্ষণাবেক্ষণ ফি এড়াতে নিষ্ক্রিয় হিসাব বন্ধ করাও এ প্রবণতায় ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিনের মতে, সব শেয়ারশূন্য বিও হিসাবকে বাজার ছাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। অনেক বিনিয়োগকারী ব্রোকারেজ পরিবর্তন, সাময়িকভাবে শেয়ার বিক্রি বা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের পরিকল্পনায় নতুন হিসাব খোলার কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে