ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

টার্মিনাল সরানোর সিদ্ধান্ত, মিলল সরকারি অনুমোদন

২০২৬ জুলাই ০৮ ১৭:৪১:৫৪
টার্মিনাল সরানোর সিদ্ধান্ত, মিলল সরকারি অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ আর্জেন্টিনা ফুটবল, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তবে অনেকের অজানা, দেশটিতে রয়েছে প্রায় ৫ লাখ মুসলিমের একটি সক্রিয় ও সুপ্রতিষ্ঠিত সম্প্রদায়।

দীর্ঘ অভিবাসনের ইতিহাস, ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন ইসলামি প্রতিষ্ঠানের বিকাশের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজ নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে।

দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়াস ডেটা আর্কাইভস (ARDA)-এর তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনায় প্রায় ৫ লাখ মুসলিম বসবাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও বেশি।লাতিন আমেরিকায় মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত আর্জেন্টিনা।

ইতিহাসবিদদের মতে, পঞ্চদশ শতাব্দীতে স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের সঙ্গে আসা মুরিশ ও মরিস্কো মুসলিমদের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইসলামের প্রথম পরিচয় ঘটে।

পরবর্তীতে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিরিয়া ও লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক আরব অভিবাসী আর্জেন্টিনায় এসে বসতি স্থাপন করেন। এতে দেশটির মুসলিম সমাজ আরও সুসংগঠিত হয়ে ওঠে।

আর্জেন্টিনায় ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ শুরু হয় আশির দশকে।১৯৮৩ সালে রাজধানী বুয়েনস আইরেসে প্রতিষ্ঠিত হয় আত-তাওহিদ মসজিদ, যা দেশটির প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত।১৯৮৫ সালে নির্মিত আল-আহমদ মসজিদ ছিল ইসলামি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত প্রথম মসজিদ।

১৯৯৬ সালে সৌদি আরবের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম ইসলামিক কমপ্লেক্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এখানে মসজিদ, গ্রন্থাগার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পার্ক রয়েছে।বর্তমানে আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজ বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

নতুন প্রজন্মের বড় অংশ স্প্যানিশ ভাষাভাষী হওয়ায় আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে তাদের সংযোগ তুলনামূলকভাবে দুর্বল হচ্ছে। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় নির্ভরযোগ্য ইসলামি সাহিত্য ও গবেষণাগ্রন্থের স্বল্পতা এবং গণমাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক উপস্থাপনার অভাবও ধর্মীয় পরিচয় ধরে রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শত বছরের ইতিহাস, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের কারণে আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজ এখনও সুসংগঠিত।

সময়োপযোগী শিক্ষা, গবেষণা এবং দাওয়াহ কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও ইসলামের মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে