ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিল, সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

২০২৬ জুন ৩০ ১২:১০:২৯
বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিল, সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে একীভূত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের রূপরেখাও তুলে ধরেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬-এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, "সরকারের বার্তা স্পষ্ট—যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।"

গত ১০ এপ্রিল বিএনপি সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে। সংসদে পাসের আগে এতে ১৮(ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়।

ধারাটিতে বলা হয়েছিল, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যাঁরা ব্যাংকটির শেয়ারধারী ছিলেন, তাঁরা চাইলে পরবর্তীতে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায়ভার গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ সুযোগ দিতে পারবে।

এ ধারা যুক্ত হওয়ার পর বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে। এছাড়া ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী, হজ সঞ্চয়কারী এবং ডিপিএস গ্রাহকদের জন্য বিশেষ মানবিক সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থ বিলে একাধিক সংশোধনীর ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে—

জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত করা

তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর-সুবিধা

ব্যাংকিং চ্যানেলে সব লেনদেন সম্পন্নকারী কোম্পানির জন্য অতিরিক্ত করছাড়

লভ্যাংশের ওপর করহার কমানো

মিউচুয়াল ফান্ডে কর রেয়াতের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিনিয়োগসীমা তুলে দেওয়া

পাচার হওয়া সম্পদ ও ঋণ আদায়ে উদ্যোগ

অর্থমন্ত্রী জানান, গত মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশে ও বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বড় ঋণগ্রহীতা ছয়টি গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রথম ধাপে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ছয় হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৬০টি পণ্যে উৎসে কর কমানো, ব্যবসা সহজ করতে ডিরেগুলেশন, সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, "একটি বাজেটের সাফল্য তার ঘোষণায় নয়, বরং বাস্তবায়নে নিহিত।" এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহি এবং বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দেবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে