ঢাকা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত নিয়ে নতুন তথ্য

২০২৬ জুন ২০ ১১:৫৭:৪৭
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত নিয়ে নতুন তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার সমান।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে এই আমানত প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। তবে আমানতকারীদের পরিচয় বা অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, বৈধ অনুমোদন ছাড়া বিদেশে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ জমা রাখার সুযোগ না থাকায় এসব অর্থের একটি বড় অংশ পাচারের মাধ্যমে বিদেশে গেছে বলে ধারণা করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণে সুইস ব্যাংক এখনো অবৈধ অর্থ সংরক্ষণের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় কঠোর নীতির কারণে সুইস ব্যাংকগুলো বিশ্বজুড়ে পরিচিত। যদিও আন্তর্জাতিক চাপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা চালু হয়েছে, তবুও গোপনীয়তার বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ।

রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা বা বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী বিদেশে সম্পদ সরিয়ে নিতে আগ্রহী হন।

কর ফাঁকি, দুর্নীতি বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দেশের ভেতরে সংরক্ষণে ঝুঁকি থাকায় অনেকে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

আমদানি-রপ্তানিতে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখানো, হুন্ডি ও অন্যান্য অবৈধ আর্থিক লেনদেন অর্থ পাচারের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং সুইস ফ্রাঙ্কের স্থিতিশীলতার কারণে অনেকেই সুইজারল্যান্ডকে সম্পদ সংরক্ষণের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু গন্তব্য দেশ নয়, অর্থ পাচারের উৎস ও প্রক্রিয়া বন্ধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, দুর্নীতি দমন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জানিয়েছে, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ এবং সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রবণতা বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে।

তাদের মতে, অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে